‘শীতের রাতে গাড়িতে সেক্স করার মজাই আলাদা…’, চলতি বছরের গোড়ার দিকে দিল্লির কনসার্টে এহেন মন্তব্যে করে বিতর্কের শিরোনামে নাম লেখান হানি সিং। অশালীন মন্তব্যের জেরে বেধড়ক কটাক্ষ, সমালোচনার মুখে পড়তে হয় গায়ক-ব়্যাপরকে। কেউ ‘বুড়োর ভিমরতি’ বলে কটাক্ষ করছিলেন তো কেউ বা আবার ‘পেডো’ বলেও তোপ দাগেন। বিতর্কের ঝড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ক্ষমা চেয়েছিলেন ঠিকই, তবে তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। বরং বিষয়টা ধামা চাপা দিতে গিয়ে আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। আর সেই প্রেক্ষিতেই হানি সিংয়ের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের হয়। যার ভিত্তিতে র্যাপারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠানো হয়। কিন্তু বারবার হাজিরা এড়ানোয় এবার হানিকে কড়া হুঁশিয়ারি মহারাষ্ট্র সাইবার সেলের।
গত ৬ অক্টোবর মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল হানি সিংয়ের। তবে অজ্ঞাতকারণে সেই হাজিরা এড়িয়ে আরও সময় চেয়ে নিয়েছিলেন গায়ক। এরপর সমন পাঠিয়ে ফের ১৬ অক্টোবর হাজিরা দিতে বলা হয় তাঁকে। কিন্তু শুক্রবারও হাজিরা এড়িয়ে ২২ অক্টোবর মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে হাজির হওয়ার অনুমতি চান হানি সিং। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ‘লুক আউট সার্কুলার’ জারির হুঁশিয়ারি দেয় সাইবার সেল।
“যেন কেউ অসুরক্ষিত যৌনতায় জড়িয়ে ভুল না করে। সঙ্গমের সময়ে যেন কন্ডোম ব্যবহার করে। আমি ভেবেছিলাম এই প্রজন্ম যেভাবে ওটিটি কন্টেন্ট এবং সিনেমা দেখে, তাই সেরকম ভাষায় কথা বললে হয়তো তারা আরও ভালোভাবে বুঝবে।”
বিতর্ক আর হানি সিং যেন পরস্পরের সমার্থক। ছাব্বিশ সালের জানুয়ারি মাসে এক কনসার্টের মাঝে বিতর্কিত মন্তব্য করে আইনি জটিলতায় পড়েন খ্যাতনামা র্যাপার। বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, সেই প্রেক্ষিতেই ৫ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের সাইবার সেলে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল গায়কের। কিন্তু এবারও জেরা এড়িয়ে গিয়েছেন হানি সিং। র্যাপার জানিয়ছেন তার আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। ঠিক কোন ঘটনার জেরে ‘আইনি অভিশাপে’ বিদ্ধ হানি? মাস কয়েক আগে নানকু এবং করুণের দিল্লি কনসার্ট থেকে বলিউড ব়্যাপারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানেই হাড়কাঁপানো শীতে শ্রোতা-অনুরাগীদের গাড়িতে সঙ্গমের পরামর্শ দিতে শোনা যায় তাঁকে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে অশ্রাব্য গালিগালাজ সহকারে হানি সিংকে বলতে শোনা যায়, “উফফ, দিল্লিতে এমন ঠান্ডা! এই শীতে গাড়িতে সঙ্গমের মজাই আলাদা। তবে বন্ধুরা প্লিজ, কন্ডোম ব্যবহার করবেন। নিরাপদে থাকবেন।” এহেন মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার পরই সোশাল পাড়ায় ছিছিক্কার পড়ে যায়! বিতর্কের মুখে পড়ে এবার হানি সিং বলেছিলেন, যৌন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই গাড়িতে সঙ্গমের নিদান দিয়েছিলেন, আর সেই মন্তব্য যেন ওই বিতর্কযজ্ঞে আরও ঘৃতাহূতির মতো কাজ করে। ঠিক কী বলেছিলেন হানি সিং?
বলিউডের ‘দেশি কালাকার’ সেসময়ে বলেন, অনিরাপদ যৌনতার কারণে অনেক তরুণ-তরুণীই বর্তমানে যৌনরোগে ভুগছেন, আর তাই জেন জি’দের ভাষায় তাঁদের যৌনসুরক্ষামূলক বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভুলভাবে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা হয়েছে। হানি সিং বলেন, “শোয়ের আগে জনা কয়েক যৌন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই আমাকে কনসার্টে ‘সেফ সেক্স’-এর বার্তা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই তরুণ প্রজন্মের ভাষায় আমি বিষয়টি বোঝাতে গিয়েছিলাম। যেন কেউ অসুরক্ষিত যৌনতায় জড়িয়ে ভুল না করে। সঙ্গমের সময়ে যেন কন্ডোম ব্যবহার করে। আমি ভেবেছিলাম এই প্রজন্ম যেভাবে ওটিটি কন্টেন্ট এবং সিনেমা দেখে, তাই সেরকম ভাষায় কথা বললে হয়তো তারা আরও ভালোভাবে বুঝবে। কিন্তু আমার ভাষা অনেকের কাছেই খুব খারাপ ঠেকেছে। যাঁদের খারাপ লেগেছে, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।” এখানেই অবশ্য থামেননি হানি সিং।
গায়ক-ব়্যাপারের এও জানিয়েছিলেন যে, “কাউকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আসলে মানুষ মাত্রই তো ভুল করে! তবে ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন আর না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখব। কথা বলার সময়ে কাকে বলছি, কেন বলছি, সেসব বিচার করে আমার ভাষার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখব। আরও সচেতন হব।” কিন্তু ক্ষমা চাইতে গিয়ে হানি যে ডাক্তারের পরামর্শের কথা উল্লেখ করেছেন, তাতেই প্রশ্ন উঠেছিল, ‘ডাক্তাররা কি শীতের রাতেই গাড়িতে সেক্স করার পরামর্শ দিচ্ছেন?’ কেউ বা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘সচেতনতার পাঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা সংযত হওয়া প্রয়োজন ছিল।’ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই আইনি জটিলতায় জড়ান হানি সিং। কিন্তু অক্টোবর মাসের ৬ তারিখ হাজিরা এড়িয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলেন র্যাপার। চলতি বছরের মে মাসেই আবার নারীবিদ্বেষী গানের কথার জেরে হিন্দু শক্তি দলের রোষানলে পড়েছিলেন তিনি। যে মামলা এখনও দিল্লি হাই কোর্টে বিচারাধীন।
