Published on
:
2 min read
পুজোর ক'টা দিন পেটের উপর রীতিমতো অত্যাচার হয়েছে। তাই পুজো শেষ হতেই ভুগতে হচ্ছে পেটের গণ্ডগোলে। এই সময়ে হালকা খাবার খেলেই ভালো। তবে ইদানীং পেটের ভালো রাখতে বহু মানুষ বেছে নিচ্ছেন ফার্মেন্টেড বা মজানো খাবার। ডায়েটে থাকছে দই, কিমচি, অ্যাপল সিডার ভিনিগারের মতো ‘ফার্মেন্টেড’ খাবার। আর মানুষের ধারণা এগুলো প্রোবায়োটিকে ভরপুর, তা-ই এত উপকারী। কিন্তু ফার্মেন্টেড খাবার মানেই কি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ?
ফার্মেন্টেড ও প্রোবায়োটিক খাবারের মধ্যে তফাৎ কী?
সব ফার্মেন্টেড খাবার প্রোবায়োটিক নয়। ফার্মেন্টেশন হলো, এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ইস্টের মতো অণুজীব খাবারের শর্করা এবং অন্যান্য উপাদান ভেঙে ফেলে। এর ফলে খাবারের স্বাদ, গন্ধ, গঠন বদলে যায়। যেমন দই, ইডলি-দোসার ব্যাটার, কিমচির মতো খাবার।
অন্য দিকে, প্রোবায়োটিক হলো এমন জীবিত অণুজীব, যা শরীরে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। পেটকে ঠান্ডা রাখার কাজ করে প্রোবায়োটিক খাবার। তবে কোনও খাবারে জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকলেই তাকে প্রোবায়োটিক বলা যায় না। সেই অণুজীব আদৌ অন্ত্রের জন্য উপকারী কি না, তা বোঝা যাচাই করা উচিত।
ফার্মেন্টেশনের সময়ে কিছু ব্যাকটেরিয়াকে প্রোবায়োটিক বলা যেতে পারে, কিন্তু সেগুলো আদৌ উপকারী কি না, তা আগে পরীক্ষা করতে হবে। সুতরাং, কোনও খাবার মজিয়ে বা ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বলেই যে তাতে প্রোবায়োটিক রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে এই পার্থক্য বোঝা সহজ নয়। বিশেষত খাবার বা খাদ্যসামগ্রী কেনার সময়ে কী ভাবে বুঝবেন কোনটায় রয়েছে প্রোবায়োটিক?
খাবার কেনার সময়ে কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
খাবার তৈরির পদ্ধতি, প্রক্রিয়াকরণ এবং সংরক্ষণের উপর নির্ভর করে তাতে জীবিত অণুজীবের উপস্থিতি। যেমন, দই পাতার সময়ে তাতে উপকারী অণুজীব থাকতে পারে। কিন্তু ফার্মান্টেশনের পরে যদি তাপ প্রয়োগ করা হয়, তা হলে অনেক ভালো ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই খাবার কেনার সময়ে বা তৈরি করার সময়ে কয়েকটি বিষয় যাচাই করে নিতে হবে।
প্যাকেটের গায়ে শুধু ‘ফার্মেন্টেড’ বা ‘ন্যাচারাল’-এর মতো শব্দগুলো খুঁজলে চলবে না। নির্দিষ্ট মাইক্রোবিয়াল স্ট্রেইন এবং তাদের প্রমাণিত স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে তথ্য লেখা আছে কি না দেখুন।
ফার্মান্টেড খাবার কেনার সময়ে ‘লাইভ অ্যান্ড অ্যাক্টিভ কালচারস’ লেখা রয়েছে কি না, দেখে নিন।
বাড়িতে যদি দই পাতেন, ইডলি-ধোসা বানান কিংবা আচার তৈরি করেন, সে ক্ষেত্রেও প্রস্তুতির পদ্ধতি, স্বাস্থ্যবিধি এবং সংরক্ষণের দিকে নজর দিতেই হবে।
FAQ
১. ফার্মেন্টেড খাবার কী?
যে খাবার ব্যাকটেরিয়া বা ইস্টের মতো অণুজীবের সাহায্যে গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, তাকে ফার্মেন্টেড খাবার বলে।
২. সব ফার্মেন্টেড খাবার কি প্রোবায়োটিক?
না, সব ফার্মেন্টেড খাবারে উপকারী জীবিত অণুজীব থাকে না। তাই সব ফার্মেন্টেড খাবারকে প্রোবায়োটিক বলা যায় না।
৩. ফার্মেন্টেড ও প্রোবায়োটিক খাবারের মধ্যে পার্থক্য কী?
ফার্মেন্টেড খাবার গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। অন্য দিকে, প্রোবায়োটিক হলো নির্দিষ্ট জীবিত অণুজীব, যা পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের উপকার করতে পারে।
৪. খাবারে প্রোবায়োটিক রয়েছে কি না বুঝবেন কী ভাবে?
প্যাকেটের গায়ে ‘লাইভ অ্যান্ড অ্যাক্টিভ কালচারস’ লেখা রয়েছে কি না দেখুন। নির্দিষ্ট অণুজীবের নাম ও তাদের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে তথ্য থাকলেও তা যাচাই করতে পারেন।
৫. কোন কোন খাবার ফার্মেন্টেড?
দই, কিমচি, ইডলি ও দোসার ব্যাটার এবং বিভিন্ন ধরনের আচার ফার্মেন্টেড খাবারের উদাহরণ। তবে এগুলির সবগুলিতে প্রোবায়োটিক নাও থাকতে পারে।
