প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ নিয়ে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকদের সংগঠন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বরাবর প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের মাধ্যমে পাঠানো এক চিঠিতে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এনইসির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের পরামর্শমূলক সভা আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানানো হয়। এনইসি মনে করে, তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের যুগে এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতাসহ জনগণের নাগরিক অধিকার রক্ষিত হবে।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে এনইসির সুপারিশগুলো হলো- নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ছাড়া সরকারের কাছ থেকে অন্য কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা বা বাহিনীর ওপর এই আইনের অধীনে কোনো ক্ষমতা না দেওয়া; কোনো তথ্য-উপাত্ত অপসারণ কিংবা ব্লক করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ও আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা, এর ফলে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ সংকুচিত হবে।
সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানিবিষয়ক ধারা সংযুক্ত করা হলে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ অপরাধের জন্য পেনাল কোডে ইতোমধ্যে অন্যান্য ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভিকটিম আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। এ কারণে সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি অন্তর্ভুক্ত না করা; সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে অপরাধের ব্যাখ্যা এমনভাবে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টীকরণ, যাতে করে আইনের অপব্যবহারের কোনো সুযোগ না থাকে।
সাইবার স্পেসে গুজব এবং অপতথ্য প্রচারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিধান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার অবারিত সুযোগ থাকায় ২৬(ক) ধারা প্রত্যাহার করা; ২৯ নম্বর ধারায় কোম্পানির নিবন্ধন স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার যে বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা। অন্যথায় এ ধারার সুযোগ নিয়ে যে কোনো সরকার ফ্যাসিস্ট আমলের মতো গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।
৪১ নম্বর ধারায় প্রস্তাবিত ২৬(ক) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২৬(ক) ধারা বাতিলের প্রস্তাবের সঙ্গে সংগতি রেখে ৪১ ধারা থেকেও ২৬(ক) বিলুপ্ত করা; সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখা; কোনো সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে অবশ্যই বিচারিক অনুমোদনের বিধান অন্তর্ভুক্ত রাখা; মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের বিচারের প্রস্তাবিত বিধান বিলুপ্ত করা।