বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার মেরামত করা না গেলে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় পাঁচ বছর যে-ই ক্ষমতায় থাকবেন, তিনিই আরেক শেখ হাসিনায় পরিণত হবেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। তারা কেন শপথ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্র মেরামত করতে চায় না এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাস করে না। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী। দলটি প্রকৃত অর্থে এই চেতনা ধারণ করে না।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলাই বিপ্লবে বিএনপি মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র-জনতা ও তরুণ প্রজন্ম।
মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাত ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের দালালদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে বলে মনে হয়। দেশের অর্থনীতি রক্ষা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তাঁরা রাজপথে রয়েছেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার করে স্পষ্ট পরিবর্তন আনতে হবে এবং দলীয়করণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে। এতে বাংলাদেশ, দেশের রাজনীতি এবং বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি টিকে থাকবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ এবং গাজীপুর জামিয়া মাহমুদিয়ার শায়খুল হাদিস মুফতি আব্দুল মতিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত শ্রমিক মজলিসের সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্লাহ এবং এনসিপির জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সোহেলসহ অনেকে।
