The Sangbad · সাধারণ
হালাল সার্টিফিকেশনে অর্জন পেল বিএসটিআই
১৪/১০/২০২৬

রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে অর্জন করেছে হালাল সার্টিফিকেশনের বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাক্রেডিটেশন সনদ। বুধবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এই সনদ তুলে দেয় মান সংস্থার হাতে।উল্লেখ্য, বিএসটিআই থেকে বেশ কিছুদিন ধরে হালাল সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এতদিন ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরির কোনো অ্যাক্রেডিটেশন না থাকায় বিশ্ববাজারে হালাল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হতো দেশীয় রপ্তানিকারকদের। বর্তমান এই অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ফলে একদিকে যেমন হালাল পণ্যের নিখুঁত মান নিশ্চিত হবে।অন্যদিকে সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শক্ত অবস্থান সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।বিশ্ব মান দিবসের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। এছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে হবে এবং এর জন্য বিশ্বমানের পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিএসটিআইয়ের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর কার্যক্রম দেশব্যাপী আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, মেইড ইন বাংলাদেশ লোগোটি যেন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পণ্যের মান, আস্থা ও অবিচল বিশ্বাসের প্রকৃত প্রতীক হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।বাজার থেকে নকল, ভেজাল ও বিএসটিআই’র মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহার কঠোর হাতে দমনের জন্য একটি পৃথক গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করার জোরালো প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, বর্তমানে যেভাবে নকল ও ভেজাল পণ্যের উপদ্রব বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য একটি বিশেষায়িত এনফোর্সমেন্ট এন্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চালু করা একান্ত প্রয়োজন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মান কেবল একটি সাধারণ কাগজের সনদ নয়, এটি মূলত একজন নাগরিকের সাথে রাষ্ট্রের আস্থার একটি পবিত্র চুক্তি এবং রাষ্ট্রের সেই গুরুদায়িত্ব পালনেই বিএসটিআই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে বিএসটিআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, সবুজ প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন এবং পরীক্ষণের আধুনিক সুবিধা সৃষ্টি নিঃসন্দেহে এসডিজি বাস্তবায়নের পথে একটি যুগান্তকারী বড় পদক্ষেপ।পরিশেষে এফসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআই’র এই হালাল সার্টিফিকেশনের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗