আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাগাতার বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের উদ্দেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করল ভারতীয় দূতাবাস। বর্তমানে ফ্রান্সে ভ্রমণ করার আগেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয়দের।
সূত্রের খবর, ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গায় কার্ফু জারি রয়েছে। বিক্ষোভের ঘটনাস্থল, বড় জমায়েত এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে +33648340063 এই নম্বরে, বা cons.paris@mea.gov.in. এই ইমেল আইডিতেও যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয়দের।
গত ১৭ অক্টোবর থেকেই দেশজুড়ে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির চড়া দাম এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স। বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেওয়ায় একাধিক শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন জায়গায় কার্ফু জারির নির্দেশ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দেশজুড়ে ২৪০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ওই দিন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ। যদিও আয়োজকদের দাবি, সংখ্যাটা ছিল প্রায় ৮ লক্ষ। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে পড়ে হিংসাত্মক গোষ্ঠী। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি দোকানপাট, সরকারি ভবন ও অন্যান্য সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটে। হিংসার আঁচ পড়েছে প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ, লিমোজ-সহ একাধিক শহরে। লিমোজ শহরের উনিশ শতকের পুরনো টাউন হলে আগুন লাগার ফলে ভবনটির ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে। মার্সেইয়ে সিটি হলের ভিতরে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। লিয়ঁর একটি পর্যটন দপ্তরে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসের একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, দেশজুড়ে অন্তত ৩ হাজার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হিংসা ঠেকাতে মার্সেইয়ে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্যারিসে হিংসা ও ভাঙচুরে জড়িতদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের নজরদারি ক্যামেরা এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, হিংসার জেরে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করছে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপের একাধিক দেশ ফ্রান্সে থাকা নিজেদের নাগরিকদের বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
