ডেইলি সিলেট ডট কম :: প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ন | ১:২৭ অপরাহ্ন
| ০
ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন একটি ভবনে টানা ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন পার করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে এই অমানবিক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন উপাচার্য।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেলিফোনে গণমাধ্যমকে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, “গতকাল থেকে ভবনের পানি-বিদ্যুৎসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ। এখানে যারা আছেন, তাদের বেশিরভাগই অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন। অনেকের মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছে। আমার একটি মোবাইল বন্ধ, যেটি চালু আছে সেটিও বেশিক্ষণ থাকবে না। কেউ পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে না গেলে পরিবারের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। অনেকেই ভেতরে সাফোকেশনে (শ্বাসকষ্ট) ভুগছেন।”
জানা যায়, সোমবার তালা দেওয়ার সময় ভবনের ভেতরে উপাচার্য, চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জন ছিলেন। দীর্ঘসময় আটকে থাকায় দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুয়েট অ্যালামনাই প্রকৌশলী শাহরিয়ার উচ্চ রক্তচাপে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন উপাচার্য। পরে অনেক চেষ্টার পর ভোর ৪টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়।
এর আগে, সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের সরাসরি পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপাচার্য পদত্যাগ করে চলে গেলেই কেবল ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। অন্যথায় আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এই অবরুদ্ধ অবস্থা চলবে।
রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মানবিক কারণে পানি ও বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর অনুরোধ করলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা টানা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার সকাল ৯টার দিকে নতুন উপাচার্য তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। দুপুর ১২টার আলটিমেটাম শেষে শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাকে ভেতরে রেখেই তালা ঝুলিয়ে দেন, যার ফলে ক্যাম্পাসে এখন চরম অচলাবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংবাদটি শেয়ার করুন
- ফেইসবুক
- টুইটার
- গুগল প্লাস
- ইমেইল
সংবাদটি শেয়ার করুন:
