কঠোর অভিবাসন নীতি: যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যে ভিসা বাতিলের এ সংখ্যা প্রকাশ করা হলো।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানায় এক প্রতিবেদনে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের হার বেড়েছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট দেওয়া এক হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিরা আইন ভাঙলে, জালিয়াতি করলে বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ট্রাম্পের দাবি, অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো। তবে মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিলিস্তিনপন্থী বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও। গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করা বিদেশিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
বিদেশি বিক্ষোভকারীদের বহিষ্কারের পাশাপাশি অভিবাসী ও ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ব্যবহার করে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ছাড়া বিচ্ছিন্ন কিছু জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো অভিবাসী গোষ্ঠীর ওপর ব্যাপকভাবে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপে বৈধ অভিবাসনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিসার জন্য উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…