ভারতের দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মূলত ‘জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছিলেন। ক্যাম্পাসে সহিংসতার জেরে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় ২০০৬ সালে এই ছাত্র সংসদটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর নজর রাখা নিরাপত্তারক্ষীরা যখন তাদের তৈরি করা তাবুগুলো সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেন, তখনই সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা ওই তাবুগুলোর নিচেই অবস্থান করছিলেন; এদের মধ্যে কয়েকজন অনশনও করছিলেন।
দক্ষিণ দিল্লির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার ক্যাম্পাসে আসা দুই কংগ্রেস নেতার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে তুলেছে এবং তাদের রাজনৈতিক বয়ানের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
জামিয়ার রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগঢ়ি ও ইমরান মাসুদ দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ার একদিন পরই এই ঘটনাটি ঘটে এবং এর ফলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।
রিজভি আরো জানান, এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয় ১২ অক্টোবর। শনিবার দিনের শুরুতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ অভিযোগ করেছিল, জামিয়া প্রশাসন অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো উস্কানি ছাড়াই দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির আরেকটি কারণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ স্লোগান লেখা—যার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি তদন্তের দাবি জানায়। এই স্লোগানগুলো জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে লেখা এক চিঠিতে সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিট্টাস জানিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক ধরে সেখানে কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। তিনি এ প্রসঙ্গে বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান, শিক্ষার্থীদের অধিকার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশিকা এবং ছাত্র নির্বাচন নিয়ে লিংডো কমিটির সুপারিশগুলোর কথা তুলে ধরেন।
