পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার আপার কুররাম ও ঘোজগাড়হি এলাকায় দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় তীব্র সংঘাত ও গোলাগুলি চলেছে।
পাকিস্তানের সরকারি মাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্র থেকে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) আফগান তালেবান সদস্যরা সীমান্ত থেকে প্রথমে অহেতুক গোলাবর্ষণ শুরু করে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও তোপ ও ভারী কামান নিয়ে তীব্র হামলা চালায়। সেনার এই কড়া জবাবে তালেবানের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছে এবং তাদের একাধিক সীমান্ত ঘাঁটি পুরো ছারখার হয়ে গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রের খবর, আফগান পক্ষের উসকানির পর পাকিস্তান সেনা কামানের গোলা বর্ষণ শুরু করলে আপার কুররামের ‘টপসার’ পোস্ট এবং ‘শিপোলা’ নামের একটি বড় সেনা ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। পাকিস্তানের এই জোরালো পাল্টা হামলার মুখে ঘোজগাড়হির চৌকি ফেলে পালিয়ে যায় তালেবান সদস্যরা। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং থেকে থেকে দুপক্ষের লড়াই চলছে।
পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জঙ্গি দলগুলোকে আশ্রয় ও সাহায্য দিচ্ছে। আর সেই আফগান ভূমিকে ব্যবহার করেই একের পর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাচ্ছে। সরকারি হিসাব বলছে, শুধু ২০২৬ সালেই আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের ১,৩২৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘও বহুবার সতর্ক করেছে যে আফগানিস্তানে আল কায়েদা ও আইএসের মতো বড় বড় জঙ্গি দল এখনো ডেরা বেঁধে আছে। পাকিস্তান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে তাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি তৈরি আছে এবং তারা কাবুল সরকারের থেকে সীমান্ত পারের সন্ত্রাস বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ আশা করছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন