ইনজেকশনের ভয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে চায় না অনেক শিশু। কারো কাছে সুচ দেখলেই আতঙ্ক, আবার কেউ ইনজেকশন নেওয়ার সময় কান্নাকাটি করে। শিশুদের এই ভয় কমাতে অভিনব এক ধারণা উপস্থাপন করে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতেছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার কলম্বিয়া শহরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী কাইলিন ব্রাউন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘মট মিলিয়ন ডলার চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতায় নিজের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরে কাইলিন। তার পরিকল্পনার নাম ‘স্টিকি পালস উইথ ম্যাজিক মেডিসিন’। কাইলিন নিজেও একসময় ইনজেকশন নিতে ভয় পেত। নিজের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তার মনে প্রশ্ন জাগে, কীভাবে নিজের পাশাপাশি অন্য শিশুদেরও এই ভয় থেকে মুক্ত করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই বিশেষ একধরনের আঠালো প্যাচ তৈরির ধারণা আসে তার মাথায়। কার্টুন চরিত্রের আদলে তৈরি হবে এই প্যাচ। ইউনিকর্ন ও ডাইনোসরের মতো শিশুদের পছন্দের কাল্পনিক ও পরিচিত প্রাণীর ছবি থাকবে এতে। প্যাচটি ব্যবহারের মাধ্যমে ইনজেকশন নেওয়ার সময় শিশুদের মনোযোগ সুচের পরিবর্তে আকর্ষণীয় চরিত্রের দিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কাইলিন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্যাচে থাকবে বিশেষ ছিদ্র, যার মধ্য দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া যাবে। পাশাপাশি এতে ত্বক অবশ করার ওষুধ ব্যবহারের ধারণাও রয়েছে। এতে ইনজেকশন নেওয়ার সময় শিশুদের ভয় ও অস্বস্তি কমতে পারে বলে আশা তার। কাইলিনের ধারণা, শিশুদের হাতে খেলনা বা তাদের পছন্দের আকর্ষণীয় কিছু তুলে দিলে ইনজেকশনের সময় তাদের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া যায়। তার উদ্ভাবিত প্যাচও একইভাবে শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এই প্যাচের কার্যকারিতা এখনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি। বাস্তবে এটি কতটা নিরাপদ ও কার্যকর হবে, তা জানতে আরও গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন; বিশেষ করে ত্বক অবশ করার ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও যথাযথ নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ জরুরি। এরপরও নিজের ভয়কে অন্য শিশুদের জন্য সমাধানের ভাবনায় রূপ দিয়ে কাইলিন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার এই উদ্ভাবনী চিন্তা শিশুদের চিকিৎসাভীতি কমানোর নতুন সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
