গৃহস্থালি সামগ্রীর ভেতরে লুকানো ছিল ৪৬৬ গ্রাম ওজনের চারটি স্বর্ণের বার, সঙ্গে ১০০ গ্রাম স্বর্ণের চুড়ি।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে এসব স্বর্ণ আনা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার সকালে আবুধাবি থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান যাত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁর কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই যাত্রীর ব্যাগে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডিং যন্ত্র এবং স্টেইনলেস স্টিলের বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল স্বর্ণের বারগুলো। এসব সামগ্রী তল্লাশি করে ৪৬৬ গ্রাম ওজনের চারটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ওই যাত্রীর কাছে থাকা ১০০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণের চুড়িও জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ৫৬৬ গ্রাম।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গৃহস্থালি সামগ্রীর ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার এই ঘটনায় যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, স্বর্ণ পরিবহনের ঘটনায় আটক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পতেঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের উৎস, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং স্বর্ণগুলো কী উদ্দেশ্যে দেশে আনা হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
