ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট শরীরের হাড় মজবুত করতে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আবার সঠিক নিয়ম না জেনে এ সাপ্লিমেন্ট খেলে গুরুতর ক্ষতিও হতে পারে। তাই ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট নিয়ম মেনে খেলে কিছু ভুল অবশ্যই এড়ানো সম্ভব হয়। বিশেষ করে খালি পেটে ভিটামিন ‘ডি’ খাওয়া উচিত নয়।
কারণ ভিটামিন ‘ডি’ হলো— একটি ফ্যাট-সলিউবল বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এর অর্থ হচ্ছে— শরীর এটি শোষণ করার জন্য চর্বির প্রয়োজন হয়। আর শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ‘ডি’ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাড়ের গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে এই ভিটামিনের ভীষণ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
কারণ আপনার শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি দেখা দিলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে সূর্যের আলো ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। এ কারণে প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকার পরামর্শও দেন চিকিৎসকরা। যদিও তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় থাকা সবসময় নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আর শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি থাকলে অনেকেই সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ‘এ’ ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নিয়ম। যদিও ‘এ’ ভিটামিনের অভাবে অস্থিসংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূর্যের আলো ছাড়াও কিছু খাবার থেকে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া কঠিন হওয়ায় সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয়।
ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে— কখন এবং কীভাবে এটি খাওয়া হচ্ছে।
ভারতের ক্যানসার হিলার সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান চিকিৎসক তরঙ্গ কৃষ্ণের ভাষ্য— ভিটামিন ‘ডি’ পানিতে দ্রবণীয় নয়; এটি ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন। ফলে খালি পেটে খেলে শরীর এটি যথাযথভাবে শোষণ করতে পারে না। আবার অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভিটামিন ‘ডি’-এর ক্যাপসুল খেয়ে থাকেন। এভাবে খেলে কাঙ্ক্ষিত উপকার নাও মিলতে পারে। কারণ স্বাস্থ্যকর ও কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে আপনার শরীরে এর শোষণ ভালোভাবে হতে পারে। সে কারণে অতিরিক্ত ভিটামিন ডিও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া আপনার শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভিটামিন ‘ডি’ প্রবেশ করলেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন ‘ডি’ শরীরে ক্যালশিয়ামের শোষণ বাড়াতে পারে। সেই ক্যালশিয়াম হাড়ে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় ভিটামিন কে২-এর ভূমিকা রয়েছে।
হিলার সেন্টারের এ চিকিৎসক বলেন, শরীরে ভিটামিন কে২-এর ঘাটতি থাকলে অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম সঠিকভাবে হাড়ে না গিয়ে অন্যত্র জমা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার সময় ভিটামিন কে২-এর বিষয়টিও মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, কারণ ভিটামিন ডি৩-এর সাপ্লিমেন্ট কেনার সময় এর উপাদান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। ভিটামিন ডি৩-এর সঙ্গে ভিটামিন কে২ রয়েছে কিনা, তা সাপ্লিমেন্টের লেবেল দেখে নেওয়া যেতে পারে।
আর শুধু ভিটামিন ‘ডি’ খেলেই হবে না, কখন খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যাচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি বলে জানান চিকিৎসক তরঙ্গ কৃষ্ণ।
তিনি বলেন, তবে সবার জন্য একই মাত্রায় ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না। শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর মাত্রা, বয়স ও অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাই নিরাপদ বলে মনে করেন এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।