চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনও মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায় -এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ব্যতিক্রমী এক ‘চিঠি উৎসব’। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দিতে নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদেবার্তার (এসএমএস) যুগে কাগজের পাতায় কলম ছুঁইয়ে মনের কথা প্রকাশের এই সুযোগ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে তরুণ-তরুণীরা। ডিজিটাল এই সময়ে চিঠির খাম আর ডাক টিকিটের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই ছিল একেবারে নতুন ও রোমাঞ্চকর।
দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে বসেই মা-বাবা, ভাই-বোন, শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন নানা চিঠি লেখে। লেখার পর নিজ হাতে সেগুলো কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেয়।
সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় নওগাঁ উপ-ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ ও শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমি কোনদিন কাগজে-কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাইনি। এটিই প্রথম। আমরা তো সব সময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি, কিন্তু আজ প্রথম নিজ হাতে একটা চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দটা যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।
গণিত বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম, সেটিই ছিল প্রথম। আজ জীবনে দ্বিতীয়বার কাগজে চিঠি লিখলাম। বিনামূল্যে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা সত্যি আনন্দিত।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা আরও বলেন, যোগাযোগের দ্রুত মাধ্যম থাকলেও চিঠির গভীরতা ও চিরন্তন আবেদন অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠি লেখার এই সুপ্ত অভ্যাস পুনরায় জাগিয়ে তুলতে এবং ডাক বিভাগের আধুনিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পিড পোস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত মালামাল পৌঁছানোসহ ডাক বিভাগের বিভিন্ন সেবা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
