উৎসবের মরসুমেও কিছু কিছু ঘটনায় মন ভাল নেই মানুষের। এক দিকে চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা, অন্য দিকে সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া বন্যা। একের পর এক দুর্ঘটনার আঁচ ও বিষাদের রেশ পৌঁছেছে সুদূর দক্ষিণ সুইডেনেও। সেখানেও উদ্যাপনের মেজাজ খানিক জৌলুসহীন।
এই উদ্যাপনের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ‘সম্বন্ধ’। প্রতি বছরের মতো এ বারও মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ সুইডেনের হেলসিংবর্গ দুর্গোৎসব। চলতি বছর সপ্তম বর্ষে পদার্পণ তাঁদের। তবে চলতি বছরে একের পর এক দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে জাঁকজমকের পরিধি। তবে পুজোর দিনক্ষণ ছিল প্রতি বারের মতোই সপ্তাহান্তে। তিন দিন ব্যাপী এই দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর।
সুদূর সুইডেনে দুর্গোৎসব
সুদূর সুইডেনের ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব। সেখানেই সেজেছিল এ বারের পুজো মণ্ডপ। ঠিক যেন পল্লিগ্রামের বারোয়ারি পুজো প্রাঙ্গণ। জাঁকজমক কিছুটা কম হলেও আয়োজনে কমতি নেই মোটেও। গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বসেছিল আনন্দমেলা। খাওয়াদাওয়ায় সেখানে এলাহি আয়োজন। ফুচকা, ঘুগনি, চিংড়ির চপের সঙ্গে ছিল ফিশ ফ্রাই, মাংস, পোলাও আর শেষ পাতে মালপোয়া, ক্ষীরের পাটিসাপটা। অন্য দিকে পরদিন দুপুরে শারদপাতে পড়েছে ভোগের খিচুড়ি, আলু-ফুলকপির তরকারি ও চাটনি। সুইডেনের উপকণ্ঠেই এক টুকরো কলকাতা যেন!
অবশ্য কেবল আনন্দ উদ্যাপনই নয়, মানুষের দুর্দিনেও পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সম্বন্ধ’। সংগঠনের দাতব্য শাখা ‘ওয়ান লেস বিয়ার’ তরফে এক তহবিল গড়া হয়েছে, যেখানে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থসাহায্যে এগিয়ে এসেছেন বহু মানুষ। পরে সংগৃহীত অর্থ পাঠিয়ে দেওয়া হয় নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
