Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
রামনবমীর মিছিলে হামলার ঘটনায় কিছুদিন আগেই এনআইএ–এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত তিনি জামিনে মুক্ত হলেও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এখনও সেই মামলার বিচার চলছে আদালতে। সেই মানুষটিই এখন ব্যস্ত পুজোর আয়োজনে। যিনি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েও প্রতি বছর নিয়ম নিষ্ঠা মেনে বাড়িতে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) করেন। রীতিমতো গেরুয়া বসন পরে মন দিয়ে চণ্ডীপাঠ করেন।
রাজ্যে পালাবদলের পর সময়টা ভালো না গেলেও এ বারও সেই রুটিনে কোনও বদল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হুগলির এক সময়কার দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ শাকির আলি। শেখ শাকির আলি বড় হয়েছেন মুসলিম পরিবারে। তাঁর স্ত্রী তথা আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার অবশ্য হিন্দু পরিবারের মেয়ে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হয়েও প্রতি বছরই আরামবাগের পারুলে নিজের গ্রামের বাড়িতে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো করেন শাকির। হিন্দু–মুসলিম সব সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর বাড়িতে পুজো দেখতে আসেন। স্বামী–স্ত্রী, দু’জনে মিলেই অতিথি আপ্যায় কিন্তু সকল কেই আন্তরিকতার সাথে আপ্যায়ন করেন।এই ভাবেই দশ টা বছর একই ভাবে করে আসছেন মা দুর্গার আরাধনা। পুজো উপলক্ষে এলাকার অসহায়, দুঃস্থ মানুষদের হাতে পুজোর উপহার হিসেবে শীতবস্ত্র ও জামাকাপড় তুলে দেন। সেই সঙ্গে থাকে ভুরিভজোর ব্যবস্থা। দশমীতে প্রতিবেশীদের সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন অপরূপা। টানা ১০ বছর ধরে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন শাকির। কয়েক মাস আগেও শাকির রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলার ছিলেন। তৃণমূলের দাপুটে নেতা হওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশ, প্রশাসন, সবাই তাঁকে সমীহ করতেন। কিন্তু রাজ্যে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হতেই শাকিরের দাপট অনেকটাই কমেছে। মাথার উপর একাধিক মামলা ঝুলে থাকায় আইনি লড়াই লড়তে হচ্ছে তাঁকে। এই অবস্থায় তিনি এ বছর আর দুর্গাপুজো করবেন কি না, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু সেই ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে ছেড়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যত বাধা–বিপত্তি আসুক না কেন, পুজো বন্ধ হবে না। শাকিরের কথায়, ‘আমরা সব ভুলে পুজোর এই ক’টা দিন সকলে মিলে আনন্দে উপভোগ করি। ধর্ম আলাদা হলেও আমরা সবার আগে মানুষ। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। এই উৎসবে আমরা সবাই একাত্ম হয়ে মায়ের আরাধনা করি। সকল কষ্ট, গ্লানি, ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আমরা এই ক’টা দিন নিজেদের মতোই থাকি। আমি ও আমার স্ত্রী অপরূপা এক সঙ্গে মায়ের পুজো করি। যতদিন বাঁচব, আমরা মায়ের পুজো করব।’
অপরূপা পোদ্দার বলেন, ‘দেখুন, আমরা আগে থেকেই বলে এসেছি, ধর্ম যার যার, আর উৎসব সবার। তাই আমরা প্রতি বছর স্বামী–স্ত্রী মিলে এই পুজোর আয়োজন করে থাকি। এ বারেও তার অন্যথা হয়নি। আমরা পুজোর সময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমার স্বামী মুসলিম। কিন্তু আমরা এ সব ভাবি না। আমরা দু’জনে মিলেই দুর্গা মায়ের পুজো করি।’
