কুষ্টিয়ায় ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে; সভায় সাত দফা দাবি আদায়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হুসাইন।
আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হুসাইন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাত মাসের শাসনামলে দলীয়করণ ও চাঁদাবাজির বিস্তারের মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের আস্থা হারিয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের মানুষ ভালো নেই।
মোবারক হুসাইন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, দলীয়করণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মুহসিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুল মতিন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হুসাইন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মমিন বিশ্বাসসহ অন্য নেতারা।
সভায় লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে লংমার্চের সমাবেশস্থল কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন নেতারা।
এদিকে, লংমার্চ সফল করতে কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর, দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় পৃথক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম রবিন, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. রায়হান আলী, পরিকল্পনা সেক্রেটারি শামসুজ্জামান জুয়েল, নায়েবে আমির হাজী ইউনুস আলী, সদর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি আজমল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সামছুল হক রুবেলসহ অন্য নেতারা।
অন্যদিকে, মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরসহ অন্য নেতারা।
এ ছাড়া লংমার্চ সফল করতে ভেড়ামারা পৌরসভা জামায়াতের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান। এ সময় পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. নিজামুদ্দিন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারি এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
