পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এবার ওই বাড়ির মাটি লুট করে নিচ্ছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বাড়িঘর ভাঙচুরের পর মাটি পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বজনরা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত এ কাজ চলছে।
৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর মোস্তফার দোকানের পেছনের একটি কক্ষে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খোঁজার কাজে অংশ নিয়েছিলেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তবে ইয়াছিন ধর্ষণ বা হত্যার কথা অস্বীকার করে হত্যার পর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আলামত ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট আসলে পুর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
শনিবার দুপুরে বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে একটি বাড়ি ছিল সেটি বোঝার উপায় নেই। বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটির নিচে ফাউন্ডেশনের রড পর্যন্ত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইট ও বালু গাড়িতে করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।
বাড়িটির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া শ্রমিক সলিম প্রামাণিক বলেন, ‘‘মোস্তফা যে পাপ করেছেন তার শাস্তি হিসেবে তার বাড়িটি আমরা রাখিনি। এখন তার বাড়ির মাটি রাস্তায় দিচ্ছি। বাড়ির প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছি। আমরা এখানে পুকুর তৈরি করবো।’’
বাড়ি ভাঙার কাজে অংশ নেওয়া আতাইকুলার মাধপুর এলাকার রুবেল হাসান বলেন, ‘‘ধর্ষক ও খুনি মোস্তফার বাড়ির চিহ্ন রাখা হবে না। ইট তো দূরের কথা, একটা বালিও এখানে রাখা হবে না। এখানে পুকুর হয়ে যাবে। নিদর্শন হিসেবে রাখা হবে, ধর্ষকের পরিণতি কী হয় সেটি বোঝানোর জন্য।’’
এখনো মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল না করায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনেরা।
শিশুটির দাদা আব্দুস সোবহান বলেন, এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। এতদিনে চার্জশিট দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। এটা প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।
শিশুটির আরেক স্বজন রমজান আলী বলেন, ‘‘দোতলা বাড়ি একে একে ভাঙা হয়েছে। কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই। অথচ এখনো মামলার কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়নি বলে শুনছি। এতদিনে তো বিচার শুরু হওয়ার কথা। সবার কাছে আমাদের একটাই দাবি— একটি শিশুর ধর্ষণের ঘটনা যেন টাকার কাছে বিক্রি হয়ে না যায়।’’ পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘‘মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাসপাতালে চলে আসছে শুনেছি। দ্রুতই আমরা চার্জশিট দিয়ে দেব। শিশু কলি ধর্ষণ-হত্যা মামলায় গাফিলতি করার সুযোগ নেই।’’
