চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নৈশ টহল চলাকালে থামার সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ, মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোঃ মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ। শনিবার ভোরের দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে শাহাবুলের বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মারুফ হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার জয়নগর (কাস্টমপাড়া) গ্রামের আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদা থানার এসআই মোঃ শামসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নৈশ টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ছোট পোল নামক স্থানে হাইওয়ে সড়কে লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে আসতে দেখে পুলিশ সদস্যরা থামার সংকেত দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল আরোহী সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্তব্যরত কনস্টেবল মোঃ আলমগীর হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তাঁর মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আরোহী।
আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া লাল-কালো রঙের হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চুয়াডাঙ্গা-হ-১৪-৯৭০৫) পুলিশ জব্দ করে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা নম্বর ১৪ দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ মাহাবুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেফতার করে। চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনা এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনুযায়ী, গ্রেফতার মারুফের বিরুদ্ধে দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর বিভিন্ন ধারায় মোট ৯টি মামলার তথ্য রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
