এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল না। এশিয়ান গেমসে সপ্তম হয়ে ফেরার পর টুর্নামেন্টে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল ক্ষীণ। কিন্তু পাকিস্তান সরে দাঁড়ানোয় খুলে গেছে দরজা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুতি শুরু করছে বাংলাদেশ হকি দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে ফেডারেশনের চিন্তা এখন মাঠের বাইরের এক লড়াই-অর্থের জোগান!
এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দরজা বাংলাদেশের জন্য খুলেছে অন্যের সরে দাঁড়ানোর সুবাদে। পাকিস্তান নাম প্রত্যাহার করায় ২৭ অক্টোবর থেকে ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সুযোগকে ভালো প্রস্তুতিতে রূপ দেওয়ার আগেই নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। দল গড়ার পরিকল্পনা আছে, কোচও ঠিক; কিন্তু টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার খরচ জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে আজ ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে ফেডারেশন। আগামী বুধবার ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হবে দলের অনুশীলন ক্যাম্প। কোচের দায়িত্বে থাকছেন জার্মান পিটার গেরহার্ড। আগামী পরশু ম্যানেজারের কাছে খেলোয়াড়দের রিপোর্ট করার কথা। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধান কোচ দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হতে পারে।
ঘোষিত প্রাথমিক দলে নতুন মুখ তিনজন-তৈয়ব আলী, মো. আবদুল্লাহ ও তানভীর রহমান। তাদের কারও এখনো জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক হকির স্বাদ পেয়েছেন তারা। তৈয়ব ও আবদুল্লাহ গত মাসে চীনে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলেছেন। আর তানভীর অংশ নিয়েছিলেন ২০২৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপে।
এবারের দলে ফিরেছেন মেহরাব হাসান, নুরুজ্জামান নয়ন, আবেদ উদ্দিন ও নাহিয়ান শুভ। সর্বশেষ জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে তারা ছিলেন না। এশিয়ান গেমসে খেলা ১৮ সদস্যের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন শুধু কৌশিক। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, হকি থেকে অবসর নিয়েছেন কৌশিক। যদিও কোচ পিটার ও দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার মনোমালিন্যের কথাও শোনা গিয়েছিল।
দলের প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যবস্থাপনাতেও এসেছে পরিবর্তন। সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় ও সাংবাদিক রাহুল কান্তি রায়কে ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটিরও সদস্য। কোচিং স্টাফে থাকবেন ইমরান হাসান পিন্টু ও শহিদুল্লাহ টিটু।
তবে প্রস্তুতির এই আয়োজনের আড়ালে আর্থিক সংকটই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্সের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নারী-পুরুষের সিনিয়র ও জুনিয়র দল একাধিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির খরচ মেটানোর মতো অর্থ ফেডারেশনের হাতে নেই। প্রিন্স বলেন, ‘নারী ও পুরুষ সিনিয়র ও জুনিয়র দল একই সময়ে একাধিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। এতে অনেক ব্যয় হয়েছে। আমাদের ফেডারেশনের ফান্ডে তেমন অর্থ নেই। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য আমরা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চাইব।’
এশিয়ান গেমসে ষষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গিয়েও সপ্তম হয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ফলের কারণে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার কথা ছিল না তাদের। পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোয় সুযোগটি এসেছে ঠিকই, কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে হলে দ্রুত প্রস্তুতি ও অর্থের ব্যবস্থা-দুটিই জরুরি!
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও মালয়েশিয়া। ২৭ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। প্রতিটি দল লিগ পর্বে পাঁচটি করে ম্যাচ খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল উঠবে সেমিফাইনালে।
বাংলাদেশ এর আগে মাত্র একবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেছে। ২০২১ সালে স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে অংশ নিয়ে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের চার ম্যাচের সব কটিতেই হেরেছিল দল। এবার তাই শুধু টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াই নয়, আগের অভিজ্ঞতার চেয়ে ভালো কিছু করার সুযোগও আছে। কিন্তু সেই লক্ষ্যে এগোনোর আগে ফেডারেশনকে সামলাতে হবে অর্থের বাধা!
বাংলাদেশের ২৬ সদস্যের প্রাথমিক দল
বিপ্লব কুজুর, আশরাফুল হক, হুজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, মেহরাব হাসান, ওবায়দুল হোসেন, খালেদ মাহমুদ, পুষ্কর খিসা, রকিবুল হাসান, মাহবুব হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, ফারহাদ আহমেদ, রোমান সরকার, নুরুজ্জামান নয়ন, রাসেল মাহমুদ, সোহানুর রহমান, আবেদ উদ্দিন, তৈয়ব আলী, তানভীর রহমান, মো. আবদুল্লাহ, মাহমুদ হাসান, নাহিয়ান শুভ, আরশাদ হোসেন, শহিদুর রহমান ও দ্বীন ইসলাম।
