Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর ছুটিতে প্রায় প্রতিদিন ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানো নিয়ে এ বার দুর্গাপুজোর আগে থেকে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই বিতর্কের মধ্যেই হাইকোর্টে আগামী বছরের পুজোর ছুটির ক্যালেন্ডার তৈরি হয়ে গেল। প্রায় নজিরবিহীন ভাবে হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলেন, আগামী বছর মহালয়ার পরদিন থেকেই দুর্গাপুজোর ছুটি শুরু হবে হাইকোর্টে। যদিও সে জন্যে বিকল্প ব্যবস্থায় কয়েকটি শনিবার খোলা রাখা হবে হাইকোর্ট। আইনজীবী সংগঠনগুলি শনিবারে কোর্টে আসা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও হাইকোর্টের ছুটির ক্যালেন্ডারকে বাস্তবসম্মত বলেই মনে করছেন বর্ষীয়ান আইনজীবীরা।
এ বার পুজোর ছুটি শুরুর আগের দিনে হাইকোর্টে বিচারপতিদের নিয়ে ফুলকোর্ট বৈঠক হয়। সেখানেই জানানো হয়, আগামী বছর ২৯ সেপ্টেম্বর মহালয়া। তার পরে রুটিন ছুটিছাটা বাদ দিলে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ ও ৪ অক্টোবর পুজোর ছুটির আগে কোর্ট খোলা থাকার কথা। তবে বাস্তবে মহালয়া হয়ে গেলেই হাইকোর্ট চলে যায় ছুটির মোডে। খুব গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছাড়া আইনজীবীদের একাংশকে পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় ওই তিন দিন ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই তিন দিন ছুটির বিনিময়ে ওই বছরের ৬ ও ২০ নভেম্বর এবং ৪ ডিসেম্বরের শনিবারগুলি কাজের দিন হিসেবে গ্রাহ্য হবে। তবে মহালয়ার পর দিন থেকে পুজোর ছুটি শুরু হলেও ছুটির মধ্যে কতদিন ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানো হবে, সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বম্বে হাইকোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে যোগ দেওয়া রবীন্দ্র ভি ঘুগে এ বছরে দুর্গাপুজোর ছুটির মধ্যে ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানো নিয়ে এতদিন কলকাতা হাইকোর্টে চলে আসা রীতি বদলে ফেলেছেন। যা নিয়ে আইনজীবী এবং কর্মী–অফিসারদের একাংশের সঙ্গেই বিচার বিভাগের অফিসারদের একাংশেরও আপত্তি ছিল। দীর্ঘ আবেদন–নিবেদন, চিঠি চালাচালির পরে হাইকোর্ট ষষ্ঠী ও অষ্টমীতে ভ্যাকেশন বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। আর তার মধ্যেই ফুল বেঞ্চের বৈঠকে আগামী বছরের ক্যালেন্ডার তৈরির সময়ে মহালয়া থেকে দুর্গাপুজোর ছুটির সিদ্ধান্ত হয়। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, বাস্তবে প্রতি বছরই মহালয়া থেকেই ছুটির আবহে চলে যায় হাইকোর্ট। ফলে সেই দিক দিয়ে ছুটির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত। তার বদলে তিনটি শনিবার কাজ করতেও বিশেষ আপত্তি থাকার কথা নয়।