ফিলিস্তিনি দুই বন্দুকধারী ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকিতে হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অধিকৃত পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদোম’-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ফিলিস্তিনি দুই বন্দুকধারী ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকিতে গুলি চালালে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই হামলার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হেবরন শহরে ‘পূর্ণ অবরোধ’ আরোপ করেছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) আজ থেকে পশ্চিম তীর পুরোপুরি বন্ধ করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঠিক কখন এই পূর্ণ অবরোধ শুরু হবে বা কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই দুই বন্দুকধারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। হামলার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে কি না, তা খুঁজে বের করতে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আহতদের মধ্যে কতজন সেনা বা কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের ভিডিওগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির দৃশ্য দেখা যায়, যা অন্তত কয়েক মিনিট ধরে চলে এবং বারবার গুলির শব্দ শোনা যায়। রয়টার্সের একটি ভিডিওতে একজন ইসরায়েলি কর্মীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে, গোলাগুলি অন্তত ২০ মিনিট ধরে চলছে এবং তারা আহত ব্যক্তিদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার মাত্র চার দিন পরেই ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই প্রথম নির্বাচন। নেতানিয়াহুর জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যিনি নিজেকে একজন কঠোর নিরাপত্তা সমর্থক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন।
