কেউ জমিয়েছেন হাতখরচের টাকা, কেউ দিয়েছে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা। শিশু-কিশোর ও তরুণদের ছোট ছোট সঞ্চয় আর স্বপ্নে অবশেষে বাস্তব হয়েছে বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা। মানিকগঞ্জের পালড়া সূত্রধরপাড়ায় এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। আর্থিক সংকটের কারণে যে পাড়ায় এতদিন দুর্গোৎসবের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি, সেখানে এবার আনন্দে মেতেছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরা।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে ১০ থেকে ১৫ জন শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও তরুণের উদ্যোগ। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়ে তারা একটি সমিতি গড়ে তোলেন। পরে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বাস্তব রূপ পায় তাদের স্বপ্ন।
আয়োজকদের অন্যতম আনন্দ সূত্রধর বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এতদিন নিজেদের পাড়ায় দুর্গাপূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অন্য এলাকায় পূজা দেখতে যেতেন তারা। এবার সবাই মিলে নিজেদের পাড়ায় পূজার আয়োজন করতে পেরে তারা আনন্দিত।
পাড়ার গৃহবধূ উর্মিলা সূত্রধর বলেন, আগে অন্যের বাড়ি বা মণ্ডপে আমাদের পূজা দেখতে যেতে হতো। এবার নিজেদের পাড়ায় দুর্গোৎসব হওয়ায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠ সবার মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। প্রতিবছরই যেন এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি শ্যামল সূত্রধর বলেন, তার ৬০ বছরের জীবনে এই পাড়ায় কখনও দুর্গাপূজা হতে দেখেননি। তার ধারণা, গত ১২০ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যেও এখানে এমন আয়োজন হয়নি। পূজার খরচ বেশি হওয়ায় আগে কয়েকটি পরিবারের পক্ষে উদ্যোগটি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার তরুণদের উদ্যোগে পূজার আয়োজন হওয়ায় আমিও যুক্ত হয়েছি।
শ্যামল সূত্রধর আরও বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আয়োজকদের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত মানুষ মণ্ডপে এসে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশে পূজার আয়োজন করতে পেরে তিনি খুশি।
এ জন্য মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাসহ সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শ্যামল সূত্রধর।
প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিমাশিল্পী বিশ্ব পাল এবারই প্রথম এই পাড়ায় প্রতিমা তৈরি করেছেন। বিশ্ব পাল বলেন, নতুন একটি পাড়ার প্রথম দুর্গোৎসবের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। পারিশ্রমিক কিছুটা কম হলেও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, প্রতিবছরই এখানে দুর্গাপূজার আয়োজন হবে।
বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসমত আলী বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলাম। তবে পালড়া সূত্রধরপাড়ায় এবারই প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন হচ্ছে। শিশু-কিশোর, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মিলিত উদ্যোগে পুরো এলাকায় আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশপাশের এলাকার পূজারি ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও এ আয়োজন নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
