বিএনপিকে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির মধ্যে তো অনেক মুফতি-মাওলানা আছেন। বড় বড় কথা বলেন। আপনারা ওয়াজ-মাহফিল করুন। তাফসির করুন। করেন না দেখি, কার মাহফিলে কয়জন লোক যায়।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
আমীর হামজা এমপির ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যা করত, তা এখন করছে বিএনপি। সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ওয়াজ মাহফিল করতে দেওয়া হচ্ছে না আমীর হামজা এমপিকে। লাখো ভোটে নির্বাচিত এমপিকে ঠেকাতে না পেরে ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।’
এ সময় বিএনপিকে সতর্ক করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগও এ ধরনের কাজ করেছে। রাজশাহীর সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদের পথ থেকে ফিরে আসুন।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের সাত মাসে সমন্বয়হীনতা, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে—তা হাস্যকর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে না—বিএনপির এমন অভিযোগ হাস্যকর। জামায়াতে ইসলামীই জুলাইকে ধারণ করে। সরকার জুলাইকে ধারণ না করায় তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না। তারা সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসাচ্ছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদ, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের লোকদের বসাচ্ছে। জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইকে ধারণ করে বলে জনগণের দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছি। বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে না বলে গণভোটকে অস্বীকার করছে। গণভোটকে বাতিল করেছে। তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।
তিনি বলেন, জুলাই চেতনার বাইরে তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি কর্মকমিশনে তারা হাত দিয়েছে। সেখানে তারা চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে পিএসসির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যের পদত্যাগের কথা বলছেন। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এই দলীয়করণের বিরুদ্ধে চব্বিশের আন্দোলনে নেমে এসেছিল।
জুলাই আহতদের চিকিৎসায় জামায়াতের আমির পাশে ছিলেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা বিশ্বে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব চেষ্টায় জুলাই শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরতে এবং সংরক্ষণের জন্য তিনটি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি ও আরবি) বই প্রকাশ করেছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকার পরও কোনো উদ্যোগ নেই। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের বেতন হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থাকতে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী। তারা নিজেদের মতো বিশেষ কমিটি করে সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের পথে যাচ্ছে। তারা ভিন্নমত গ্রহণ করতে পারেনি, স্যাক্রিফাইস করেনি। জামায়াতের পাঁচটি নোট অব ডিসেন্টের ওপর তারা শক্ত থাকেনি। বিএনপি ফ্যাসিবাদী কায়দায় রাষ্ট্রকাঠামোকে রাখতে তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অটল থাকছে। সংবিধান সংস্কার না করে যেভাবে রাখা হচ্ছে, তাতে যে প্রধানমন্ত্রীই আসবেন, তিনিই ফ্যাসিবাদী হবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনির্বাচিত নারী এমপিদের নির্বাচিত এমপিদের ওপর দারোগাগিরি করতে বসানো হয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদের পথ। আমরা অসংলগ্ন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার বিষয়ে আর যেন কোনো অসত্য তথ্য জাতির কাছে তুলে না ধরা হয়, সেই আহ্বান জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আব্দুর রব, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।
