চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দেওয়ায় তিনি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি।
তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ফটকের তালা খোলা হবে না। এদিকে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। গতকালের রাতটিও আমাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটিই আমরা খেয়েছিলাম। আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমি এই মুহূর্তে কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নাশতা পাঠান। এর আগে সকালে এক দফায় তাদের জন্য নাশতা পাঠানো হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
যদিও গতকাল বিকেল ৫টার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান, তবে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। দিনভর উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারীরা।
একপর্যায়ে শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ ও ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’ -এমন নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারার মধ্যে চুয়েটের চিকিৎসকেরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা আমাদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি তো খুব বলতেন, ওনার সঙ্গে অনেক শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে। এখন তারা তাকে সাহায্য করুক।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য।
