রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দুঃসময়ের ত্যাগী আইনজীবীদের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এক আইনজীবী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু প্রধান কার্যালয় বরাবর এ আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা নিয়োগে যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের অবদান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়িত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং দেশের অধস্তন আদালতসমূহে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী সমাজে এমন অভিযোগ ও হতাশা রয়েছে যে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের জুনিয়র, চেম্বার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠজনেরা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন। অথচ বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে অনেক আইনজীবী রাজনৈতিক মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা স্বার্থে বা সীমিত সামর্থ্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। এমন আইনজীবীও রয়েছেন, যারা নিজেরা নিপীড়ন, হয়রানি এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য গুমের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। তারপরও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের পাশে থেকেছেন, আদালতে লড়েছেন এবং কঠিন সময়ে পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা পালন করেছেন। কিন্তু কোনো প্রভাবশালী সিনিয়র আইনজীবীর আস্থাভাজন বা নির্দিষ্ট চেম্বারের সদস্য না হওয়ায় তাদের অনেকেই আজও যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না– এমন বেদনা আইনজীবী সমাজে গভীরভাবে বিদ্যমান।
আবেদনে আরও বলা হয়, ‘আমাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, চেম্বারকেন্দ্রিক প্রাধান্য বা অস্বচ্ছ সুপারিশের কোনো সুযোগ থাকবে না। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং অধস্তন আদালতের পিপি-এপিপি নিয়োগে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হোক। বিশেষভাবে অনুরোধ থাকবে, দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা, নিপীড়ন ও ঝুঁকি উপেক্ষা করে দল, গণতন্ত্র ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন, সেই ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ ও দক্ষ আইনজীবীদের অবদান যেন যথাযথভাবে যাচাই ও মূল্যায়ন করা হয়।’
এমএইচডি/বিআরইউ
