ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (CIID) পৃথক দুটি অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, যার মধ্যে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে, এবং একটি আইফোন আটক করা হয়েছে। আটক করা পণ্যের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা।
গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে অভিযান: ৬১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোন আটক
আরও পড়ুন
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থান নেন।
এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের BS-0316 ফ্লাইটে আসা যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাঁর ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী তা পরীক্ষা ও ইনভেন্টরি করেন।
পরীক্ষাকালে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি iPhone 18 Pro Max আটক করা হয়। আটক করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা।
চট্টগ্রামে জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না: দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক
অন্যদিকে, একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেন।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত শুল্ক ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।
একই ফ্লাইটে আসা অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এক যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে এর আগে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার তথ্যও লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এ অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।
এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক: চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য
উল্লেখ্য, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক নজরদারির ফলে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার ও ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ ডিএম মূলে আটক করা হয়েছে।
চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর অবস্থান
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই দিনে পরিচালিত এ দুটি অভিযান কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রতিফলন।
রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তকরণে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ফারজানা লাবনী/রিফাত/
