আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো সহিংস বিক্ষোভ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির রাজধানী তিরানায় টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন রামা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে পুনরায় শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন এবং রামা, পদত্যাগ করুন বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভিড় হটাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পরবর্তীতে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে।
আরও পড়ুন
বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রস্থলের দোকানপাট ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দরজা-জানালা ধাতব শাটার দিয়ে সুরক্ষিত করেছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা যাতে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে না পারে, সেজন্য সিটি করপোরেশনের কর্মীরা রাস্তার পেভিং স্টোনগুলো আগেভাগেই তুলে ফেলছেন।
আলবেনীয় সংবাদমাধ্যম টিভি ক্ল্যানের সাংবাদিক লিনদিতা কারাদাকু আল জাজিরাকে জানান, এই অস্থিরতা কতদূর গড়াবে বা কতদিন চলবে তা বলা কঠিন।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। অন্যদিকে আন্দোলনরত তরুণ সমাজও সহজে দমে না যাওয়ার বিষয়ে অনড়। এই মুহূর্তে আগামীকাল কী হতে যাচ্ছে তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়।’
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে রামা বলেন, ‘সরকার কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি।’ তবে চলমান এই অস্থিরতা আলবেনিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আরও পড়ুন
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আলবেনীয়দের খুব স্পষ্টভাবে চিন্তা করা দরকার তারা কি এই সহিংসতা চায়, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ চায়? উল্লেখ্য, আলবেনিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আশা করছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
- মানসম্মত শিক্ষা ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
- কথিত দুর্নীতি বন্ধ করা
- প্রধানমন্ত্রী এডি রামার অবিলম্বে পদত্যাগ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিরানার বিক্ষোভকারীরা মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের এলাকা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এই সহিংস আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তার সরকার দুর্নীতি দমনে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।
রামা আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি শুনতে এবং শিক্ষার খরচ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রস্তুত, তবে যারা সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
তিরানার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেন্টর নাজারকো বলেন, ‘রামা সমস্যার গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, কোনো সমাধান খুঁজে পাননি এবং অনেক সময় নষ্ট করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, তার বৈধতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সরকার ও জনগণের মাঝে এখন পুলিশ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর এই পুলিশ বাহিনীও বিক্ষোভ সামলাতে অপ্রশিক্ষিত, স্বল্প বেতনভোগী এবং এদের একটি অংশ দুর্নীতি ও অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সূত্র: আল জাজিরা
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
‘ম্যাক্রোর অক্ষমতাই ফরাসি দাঙ্গাকে উসকে দিয়েছে’
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ফ্রান্সে চলমান সহিংস অস্থিরতার জন্য প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তার সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন দেশটির বিরোধী নেতারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় এবং পাবলিক সার্ভিসের মান অবনতির প্রতিবাদে প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এই বিক্ষোভ খুব দ্রুত দাঙ্গা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটে রূপ নেয়। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শত শত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে এগিয়ে থাকা ডানপন্থি নেত্রী মারিন ল্য পেন ম্যাক্রোঁকে বিশ্বাসযোগ্যতা বা কর্তৃত্বহীন এবং বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই প্রশাসনকে নিঃশেষ হয়ে আসা একটি সরকার বলে মন্তব্য করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা আস্থা ও কর্তৃপক্ষের এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা আমাদের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের দেশ আজ সহিংসতা ও সরকারের ক্ষমতাহীনতার মাঝে পিষ্ট হয়ে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন
উল্লেখযোগ্য যে, গত জুলাই মাসে প্যারিসের একটি আপিল আদালত ইইউ তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে ল্য পেনের দণ্ড বজায় রাখলেও তার সাজা কিছুটা সংশোধন করে। এর ফলে ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি দলের এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। যদিও ল্য পেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন যে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্ডান বারদেলা বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখানো শিথিলতা, ক্ষমতার অবক্ষয় এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর নৈতিক ও বস্তুগত দুর্বলতার মূল্য দিচ্ছি। আমি আশা করি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন এবং পদত্যাগ করবেন।’
আরও পড়ুন
অন্যদিকে, বামপন্থি দল লা ফ্রঁস আঁসমিজের নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশঁ ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘গত দশ বছরের ভয়াবহ শাসনের ফসল হলো এই বিক্ষোভ, যে সময়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্র ও সরকারি পরিষেবাগুলোর স্বাভাবিক কাজকর্ম ধ্বংস করে দিয়েছেন।’
তিনি বিক্ষোভ দমনে অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ এবং পুলিশ প্রধানদের সম্পূর্ণ অক্ষমতার অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অস্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব অস্ত্রের কারণে বহু মানুষ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, এলএফআই পূর্বেও সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরকারি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।’
রবিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী এবং দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের যৌক্তিক দাবিগুলো অবশ্যই শোনা হবে, তবে যারা সহিংসতার জন্য দায়ী তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাব না। কথা শোনা বা আলোচনার অর্থ দুর্বলতা প্রকাশ করা কিংবা ছাড় দেওয়া নয়।’
শিক্ষকদের সংকট ও পড়াশোনার নিম্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধান করার প্রতিশ্রুতিও দেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি বলেন, ‘কোনো পূর্বসংস্কার বা সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে তাদের দাবিগুলো শুনতে হবে।’
অক্টোবরের জনমত জরিপ অনুযায়ী, ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তার হার কমে মাত্র ১৫ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রথম ধাপের জরিপে ল্য পেন প্রায় ৩২ শতাংশ থেকে ৩৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন। সূত্র: আরটি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
কারাবাস এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ঠেলছেন নেতানিয়াহু: আরাঘচি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: সংগৃহীত
-->কারাবাস এড়াতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সামরিক অভিযানে না জড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি লেখেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। এই কাজে তিনি ইসরায়েল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিণতির পরোয়া করছেন না বলেও জানান আরাঘচি।
মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। এবারও কি নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? তাহলে স্বাগত। তবে সাবধানে থাকবেন, কারণ আমাদেরও কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন
আগামী ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন সামনে রেখে রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করার পরই আরাঘচি এই মন্তব্য করলেন। সেখানে ইরানকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বোঝাপড়ার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেন, ইসরায়েলিরা অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী করলে ওয়াশিংটনকেই ইরানকে মোকাবিলার দায়িত্ব হাতে নিতে হতে পারে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইসরায়েলে যদি ভুল কোনো নেতা নির্বাচিত হন যা বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) ছাড়া অন্য কেউ- তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকেই এই কাজ করতে হবে। তবে আমি সেটির দিকে যেতে চাই না।’
আরও পড়ুন
২০২২ সালের শেষের দিক থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থি সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহু। দেশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার চলছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরোয়ানাও ঝুলছে তার বিরুদ্ধে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যালটের মাধ্যমে নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তৎপরতা জোরদার করেছে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো।
আরও পড়ুন
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যা পরবর্তী সময়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জন্ম দেয়। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি এবং জুনের একটি কাঠামো চুক্তি সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা থমকে যাওয়ায় লড়াই আবার শুরু হয়। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
অলি/
আরও পড়ুন
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে অন্তত চারজন নিহত এবং বহু লোক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি বলে বর্ণনা করেছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে নিশ্চিত করছি যে ফরেস্ট সার্ভিস বা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া আরও বহু লোক গুরুতর আহত হয়েছেন।’
আরও পড়ুন
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, মোট ৩৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রবিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রোগীদের আলবার্টাজুড়ে চারটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সকলের খোঁজ মিলছে।
আরও পড়ুন
সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল এল ডব্লিউ রুটল্যান্ড বলেন, ‘সামরিক ঘাঁটির কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন লাগার বিষয়ে অবগত ছিলেন। তবে অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাস শুরু হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির একটি প্রশাসনিক এলাকার দিকে দিক পরিবর্তন করে।’
তিনি বলেন, ‘বাতাস যখন মোড় নেয়, তখন আগুন এক কিলোমিটার দূরে ছিল। মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুনের এক কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়া একেবারেই অস্বাভাবিক।’
আরও পড়ুন
শনিবার বিকেলে এডমন্টন থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত প্রশিক্ষণ এলাকার সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই ঘটনায় হতাহতের কথা নিশ্চিত করলেও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি।
কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রথম আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প: জেলেনস্কি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আক্রমণ বন্ধ করতে চাপ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন তেল শোধনাগারে হামলা না চালানোর বিনিময়ে ইউক্রেনকে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে।
আরও পড়ুন
তার অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি কমানো: ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন ও যুদ্ধ ব্যবস্থাপনার জন্য জরুরি স্টারলিংক সংযোগের গতি হোয়াইট হাউসের নির্দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব: ইউক্রেন অর্থ পরিশোধ করা সত্ত্বেও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুদেশের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন
তামান্না রুপা/
