পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ) চট্টগ্রাম নগরীকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চকবাজার প্যারেড কর্নার টাক শাহ মাজার গেট থেকে চন্দনপুরা এক্সেস রোড মোড় পর্যন্ত সড়কের আইল্যান্ডের মাঝে গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।
- Advertisement -
পরিদর্শনকালে মেয়র সড়কের আইল্যান্ডে রোপণ করা গাছের চারা এবং সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি নগরীর সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানগুলোতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
“এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় শোভা ছড়াচ্ছে নানা রঙের ফুল। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছগুলোর ফোটা ফুল নাগরিকদের দিচ্ছে নান্দনিক আনন্দ। ”
মিড আইল্যান্ডে লাগানো গাছপালা ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী স্থাপনা রক্ষায় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর বিভিন্ন সড়কের মিড আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছপালা কিছু অসচেতন মানুষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ গাছের ফুল ছিঁড়ে ফেলছেন, কেউ সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। এমনকি মাদকসেবীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত রেলিং চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা করা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। তাই মিড আইল্যান্ডের গাছপালা, ফুল ও রেলিংয়ের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার এবং কোথাও এমন ঘটনা ঘটতে দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দ।
