অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কমাতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করে— এমন নতুন অর্থনৈতিক মডেল তৈরির জন্য চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অধ্যাপক রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। গতকাল সোমবার স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
এক বিবৃতিতে একাডেমি বলেছে, ‘বিজয়ীরা অর্থনীতির উত্থান-পতন মসৃণ করতে আমাদের সহায়তা করেছেন।’ একাডেমি আরও বলেছে, ‘আমাদের প্রভাবিত করা অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় তাদের মডেলগুলো খুবই সহায়ক হয়েছে।’
১৯৪৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে জন্মগ্রহণকারী রবার্ট ই. হল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আর ১৯৫৫ সালে ম্যাসাচুসেটসের চিকোপিতে জন্ম নেওয়া মাইকেল উডফোর্ড কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। পুরস্কারের অর্থ হিসেবে তারা প্রত্যেকে ৬০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা করে পাবেন।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন, তাদের কাজ ‘বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার যে মডেলগুলো ব্যবহার করে, সেগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মডেলের সাহায্যে জ্বালানি সংকট কিংবা পরিবারগুলোর ভোগের পরিমাণে আকস্মিক পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় আমরা আরও ভালোভাবে প্রস্তুত।’
মুদ্রাস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো তথাকথিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক’ চলকগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণের পরিবর্তে হল ও উডফোর্ড অর্থনীতি বোঝার জন্য ‘ব্যষ্টিক অর্থনীতির’ দিকে নজর দিয়েছেন। অর্থনীতিতে ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর সিদ্ধান্ত কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন তারা। তাদের মডেলের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো— সঞ্চয় করা কিংবা পণ্যের দাম নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের
কথা বিবেচনায় রাখা।
একাডেমি বলেছে, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাক্রমে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে নিজেদের পরিকল্পনা জানিয়ে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষের এই ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মাধ্যমে ‘অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা’ সম্ভব।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দ্য সেভরিয়েস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস’ নামে পরিচিত এই পুরস্কার আলফ্রেড নোবেল প্রবর্তন করেননি। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি প্রতিষ্ঠা করে। নোবেলের স্মৃতিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ পর্যন্ত এই পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১ জনে। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজন নারী। ১৯৬৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া পুরস্কারগুলোর অর্ধেকেরও কম ক্ষেত্রে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন।
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শেষ হলো। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগের দিন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন।
