জামালপুরের ইসলামপুরে আনোয়ার হোসেন অর্জুন (৪৪) নামে এক সাবেক সেনা সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুলকান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর ইসলামের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নুর ইসলামকে প্রধান করে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের মুরাদাবাদ নৌঘাট এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন অর্জুন এ অভিযোগ করেন।
এসময় পাথর্শী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মুসলিম উদ্দিন, সহসভাপতি আলতাফ হোসেন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন।
ভুক্তভোগী অর্জুন কুলকান্দী গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দীকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্জুন অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কুলকান্দী ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিএনপি নেতা নুর ইসলামের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
অর্জুন আরও বলেন, চাকরি থেকে অবসরে আসার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মারধরের ঘটনায় ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্তদের ভয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে পাশের এলাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে মাঝিপাড়া এলাকায় একা পেয়ে অভিযুক্তরা অর্জুনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুলকান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আসন্ন কুলকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগে আমার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের নামও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।’
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাবেক সেনা সদস্যকে মারধরের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
