বন্ড ও ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলছেন, তাদের অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযেগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে জানিয়ে রেজভী আহম্মেদ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে।
শনিবার সাভারের আশুলিয়ায় উইলিয়ামস সোয়েটার্স কারখানা পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্ডেড লাইসেন্স থাকলেও ওই কোম্পানি বন্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে, ইনবন্ড ও আউটবন্ড রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা হয়নি। কারখানায় বন্ডের কাঁচামালের কোনো পূর্ববর্তী রেকর্ডও পাওয়া যায়নি।
রেজভী আহম্মেদ বলেন, অধিদপ্তরের নথি পর্যালোচনা এবং কারখানা পরিদর্শনে দেখা গেছে, সিপিসি সুবিধায় আমদানি করা যন্ত্রপাতি সেখানে পাওয়া যায়নি। ওই কোম্পানি এ সুবিধায় যন্ত্রাংশ ও কিছু মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল। কিন্তু পরিদর্শনের সময় সেগুলোর কোনোটিই কারখানায় পাওয়া যায়নি।
এসব যন্ত্রপাতির বিপরীতে শুল্কের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি করা ৫২ হাজার ৭৮৫ কেজি কাপড় (ফেব্রিক) পরিদর্শকদের দেখাতে পারেনি উইলিয়ামস সোয়েটার্স।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, এসব কাপড় প্রক্রিয়াজাত বা উৎপাদন করে রপ্তানি করা হয়েছে—এমন কোনো নথিও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দেখাতে পারেনি ওই কোম্পানি। অনলাইন ব্যবস্থায় যাচাই করেও তাদের কোনো রপ্তানি-সংক্রান্ত রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “এই অবৈধ অপসারণের মাধ্যমে তারা এক কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।”
আমদানি করা যন্ত্রপাতি কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে রেজভী আহম্মেদ বলেন, “আমরা সেটা খুঁজি নাই। সত্যতা আমরা পেয়েছি। মেশিন তাদের ফ্যাক্টরিতে থাকার কথা, কিন্তু সেখানে পাওয়া যায়নি।”
এ বিষয়ে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
