যশোর শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায় নারিকেল চুরির অপবাদে মারধরের শিকার স্বাধীন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গভীর রাতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই মরদেহ যশোরে আনা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত স্বাধীন পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া বাঁশতলা এলাকার টিপু হোসেনের ছেলে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নারিকেল চুরির অপবাদ দিয়ে স্বাধীনকে মারধর করা হয়। এমনকি দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ছেলেকে হারিয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তার মা-বাবা।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ১২টার পর বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান ও মালোপাড়া মন্দিরের পাশে স্বাধীনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
স্বজনরা রাতেই তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহত স্বাধীনের বাবা টিপু হোসেনের অভিযোগ, নারিকেল চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উজ্জ্বল, শহিদুল, রেজা ও তৃষ্ণা জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই স্বাধীনকে মারধর করা হয়। ওই দুই পুলিশ সদস্য পূজা মন্দিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বক্তব্য নেওয়ার জন্য জন্য খোঁজ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
স্বাধীনের মা বলেন, তার ছেলে বাইরে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছিল। এ সময় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়। আইফোনের লোভে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সন্তান হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ছেলেকে হারিয়ে তিনি ন্যায়বিচার চান।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কবির হোসেন জানান, মালোপাড়া মন্দিরের পাশে মারধরের শিকার হয়ে স্বাধীন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
