ছবি: খবরের কাগজ
-->সে আসে আমার কাছে গোধূলির ভাঙা শঙ্খধ্বনির মতো,
অতল অন্ধকারে জ্বেলে দেয় নক্ষত্রের গোপন প্রদীপ,
তার পদচিহ্নে কেঁপে ওঠে বহুদিন শুকিয়ে থাকা ঘাস,
মৃত পাতার ভিতর জেগে ওঠে সবুজের প্রাচীন উচ্চারণ।
সে আসে–
যেন বর্ষার প্রথম বিদ্যুৎ ছিঁড়ে দিয়েছে নিস্তব্ধ আকাশ,
যেন পাহাড়ি ঝর্ণা পাথরের বুকে লিখে যাচ্ছে অবিনশ্বর প্রেম,
তার চোখে আমি দেখি বহু সহস্র বছরের জ্যোৎস্না,
দেখি সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেয়া নতুন কোনো ভোর।
সে আসে আমার কাছে ধানখেতের বাতাস হয়ে,
চিলের ডানায় ভেসে আসে দূর নদীর নোনা গন্ধ,
তার চুলে লেগে থাকে কাশফুলের নির্জন বিকেল,
তার কণ্ঠে বাজে শীতের কুয়াশায় হারানো বাঁশির সুর।
সে যখন আমার দিকে তাকায়,
সমস্ত নগরীর জানালাগুলো হঠাৎ আলোয় ভরে ওঠে,
ঘুমন্ত রাস্তারা খুলে দেয় তাদের পুরোনো ইতিহাস,
ভাঙা সেতুর নিচে জেগে ওঠে জলের গোপন কান্না।
সে আসে–
আর পৃথিবীর সমস্ত পরাজয় হঠাৎ অর্থহীন লাগে,
রক্তাক্ত সময়ের ভিতরও জন্ম নেয় শাপলার নির্মল শুভ্রতা,
আমি তার ছায়ায় শুনি আদিম বৃষ্টির ডাক,
শুনি মানুষের হৃদয়ে এখনো বেঁচে আছে প্রেম।
সে আসে আমার কাছে বারবার,
যেন সমুদ্র ফিরে আসে চাঁদের অদৃশ্য টানে,
যেন অরণ্যের গভীরে জেগে ওঠে বুনো হরিণের চোখ,
সে আসে–
আর আমার সমস্ত শূন্যতা ভরে ওঠে
অলৌকিক জীবনের অবিরাম সবুজে।
