ঢাকার আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৯) নামে এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জামাল। তবে তার পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করছে পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার স্ত্রী সাবিকুন নাহারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় কারখানায় ঝামেলা চলছে বলে জানিয়েছিলেন জামাল। তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরদিন বুধবার সকালে কারখানার গেট থেকে স্ত্রীকে কল করে পরিবারের খোঁজখবর নেন জামাল। ওই কথোপকথনের প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্ত্রী একাধিকবার কল করলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর অপরিচিত এক ব্যক্তি মোবাইলটি ধরে জামাল অসুস্থ বলে জানান। আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে সেখানে গিয়ে জামালের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনরা।
জামালের স্ত্রী সাবিকুন নাহার বলেন, ‘মঙ্গলবার মোবাইলে কল দিয়ে জামাল বলেছিলেন, অফিসে ঝামেলা হচ্ছে। তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছিল। বুধবার সকালে অফিসের গেট থেকে কল করে আমাদের খোঁজ নিয়েছে। আমি তাকে টেনশন না করতে বলেছিলাম। এরপর আধা ঘণ্টা পর থেকে ফোন দিলেও সে আর ধরেনি। দুই-আড়াই ঘণ্টা পর অফিসের একজন ফোন ধরে জানায়, সে খুব অসুস্থ। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই। আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার সোহাগও ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একজন সুস্থ মানুষ নিজের কর্মস্থলে গিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখায়। ফুটেজের সময় অনুযায়ী, সকাল ৯টা ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে এক ব্যক্তিকে ভবনের ছাদের এক প্রান্তের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এ সময় আরেক ব্যক্তিকে ছাদের কার্নিশে বসে থাকতে দেখা যায়। ৯টা ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ওই ব্যক্তি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর কয়েকজনকে তাকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
কারখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেন, সকালে কারখানায় এসে ছাদে যান জামাল উদ্দিন। পরে সেখান থেকে লাফ দেন তিনি। কারখানার লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
