দিনে নয় মধ্যরাতেই এখন চাহিদা বেশি- পালটে গেছে বিদ্যুতের হিসাব। যুগান্তরের শিরোনাম । এতে বলা হয়,
দেশে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা। অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে যাওয়া এসব রিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন দিনের চেয়ে মধ্যরাতেই চাহিদা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এ রিকশাগুলোই মধ্যরাতে গিলে খাচ্ছে (চার্জে) ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে বাধ্য হয়ে সরকারকে উচ্চমূল্যের তেলের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে গ্যাস সংকট ও এলপিজির উচ্চমূল্যের কারণে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দেশে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে দিনে নতুন করে আরও প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বৈদ্যুতিক চুলা নয়, সরকারের মূল চিন্তার বিষয় ব্যাটারিচালিত রিকশা। কাগজে-কলমে ‘পিক’ ও ‘অফ-পিক’ শব্দ থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। মধ্যরাতে এখন দিনের চেয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকছে। তিনি বলেন, দেশে কত ব্যাটারিচালিত রিকশা আছে, এর হিসাব কারও কাছে নেই। তবে মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট কম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা থাকছে না।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাত ১টায় (অফ-পিক) বিদ্যুতের চাহিদা দিনের সর্বোচ্চ চাহিদাকে (পিক) ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতে বিদ্যুতের চাহিদা না কমায় বাধ্য হয়ে সরকারকে উচ্চমূল্যের জ্বালানি তেলের (প্রতি ইউনিট ২৫ টাকার বেশি) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখতে হচ্ছে। পিডিবি, ডেসকো ও ডিপিডিসির হিসাব অনুযায়ী, মধ্যরাতে কেবল ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দিতে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।
দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা কত : দেশে ঠিক কত ব্যাটারিচালিত রিকশা আছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান গত সপ্তাহে যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে; যার অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ শুধু ঢাকায়ই চলাচল করে। তিনি বলেন, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোকে অনেকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সেবাস্তিয়ান গ্রোহের গবেষণায়ও দেশে প্রায় ৬০ লাখ রিকশা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক সেমিনারে তিনি বলেন, দৈনিক ৩/৪ হাজার নতুন রিকশা রাস্তায় নামছে। দেশীয় ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স ব্যাটারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইমরান করিমের মতে, বর্তমানে বাজারে ৫০ লাখের বেশি রিকশা চালু আছে এবং প্রতি মাসে অন্তত ৫ লাখ নতুন ব্যাটারি বিক্রি হচ্ছে।
২৭ সেপ্টেম্বর উত্তরখানে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা ছাড়া সেখানে তেমন কোনো যানবাহন নেই। এ এলাকার ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি গ্যারেজ হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ। এর মালিক মোহাম্মদ দাউদ যুগান্তরকে জানান, শুধু উত্তরখানে বৈধ গ্যারেজ আছে ১৪৭টির বেশি। এর বাইরে অবৈধ কত গ্যারেজ আছে, তার কোনো হিসাব নেই।
রাজধানীর কাওরান বাজারের রিকশার পাইকারি বিক্রেতা আল আমিন ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ লিয়াকত শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, এক বছর আগেও তিনি দৈনিক ১০/১৫টি রিকশা বিক্রি করতেন। তার মতো ঢাকায় হাজারের মতো দোকান আছে। এখন দৈনিক একটির বেশি বিক্রি হয় না।
বৈদ্যুতিক চুলার কারণে বাড়তি চাপ : গ্যাস-সংকট ও এলপিজির উচ্চমূল্যের কারণে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার (ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড) ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওয়ালটনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিভাগের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০২৪ সালের আগে মাসে গড়ে ১০ হাজার চুলা বিক্রি হলেও গত আগস্টে তা ৪ লাখে গিয়ে ঠেকেছিল। একটি দেশীয় বৈদ্যুতিক চুলা কোম্পানির হিসাবে, বৈদুতিক চুলা ব্যবহার করলে দিনে ২ থেকে ৩ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে।
পিডিবির সদস্য জহুরুল ইসলামের মতে, এসব চুলার কারণে দিনে নতুন করে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা কয়েক বছর আগে ছিল না।
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আশার আলো : সংকটের মধ্যেও নতুন সম্ভাবনা দেখছে সবুজ জ্বালানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘সোলশেয়ার’। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিজনেস) ইসা আবরার আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের ৯৫ শতাংশ রিকশায় ‘লিড-অ্যাসিড’ ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পরিবর্তে আধুনিক ‘লিথিয়াম-আয়ন’ ব্যাটারি ব্যবহার করা গেলে প্রতিদিন ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।
সোলশেয়ারের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পে দেখা গেছে, সারা দিন রিকশা চালানোর পরও লিথিয়াম ব্যাটারিতে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ মজুত থাকে। এই চার্জ দিয়ে রাত ১২টার আগে উলটো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। রাজধানীর উত্তরখানের হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজ নামের গ্যারেজ ইতোমধ্যে ‘নেট মিটারিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের ব্যাটারি থেকে ১ হাজার ৭২ ইউনিট বিদ্যুৎ ডেসকোর লাইনে যুক্ত করে সফলতার প্রমাণ দিয়েছে।
গ্যারেজের মালিক মোহাম্মদ দাউদ যুগান্তরকে বলেন, লিড অ্যাসিডের ব্যাটারিতে দিনে ১৩০-১৩৫ টাকার আর লিথিয়াম ব্যাটারিতে ৮০-৮৫ টাকার চার্জ লাগে। লিথিয়াম ব্যাটারি তিন বছর চলে। লিড ব্যাটারি এক বছরের কম চলে। হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজে পরীক্ষামূলকভাবে ১৮ কিলোওয়াটের একটি সোলার প্যানেলও বসানো হয়। ওই প্যানেল দিয়ে দিনে তিনটি রিকশার লিথিয়াম ব্যাটারির চার্জ দেওয়া যায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ খাতের এই চ্যালেঞ্জকে বড় সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া সম্ভব।
সোলশেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সেবাস্তিয়ান গ্রোহের যুগান্তরকে বলেছেন, আমাদের দেশের ৬০ লাখ ইলেকট্রিক রিকশাকে আমরা চাইলেই একটি স্মার্ট, লিথিয়ামচালিত ‘ভার্চুয়াল পাওয়ার প্ল্যান্টে’ বদলে ফেলতে পারি এমন সব ব্যাটারি দিয়ে, যা গ্রিডের সঙ্গেও কানেক্ট করা যাবে, আবার দেশেই রিসাইকেল করা যাবে। এই কাজটি যদি আমরা বড় পরিসরে করতে পারি, তাহলে বছরে আমাদের প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বাঁচবে।
প্রথম আলোর একটি শিরোনাম- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর:
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে পরীক্ষা। খবরে বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের স্থগিত পরীক্ষা আগামী শুক্রবার নিতে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কমিটির অন্তত একজন সদস্য মনে করেন, পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
গত শনিবার এই পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার ৯৮টি কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করে অধিদপ্তর।
স্থগিত পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা
তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা আরও দুই দিন সময় চেয়েছে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি মাহফুজুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তের আরও কিছু কাজ বাকি থাকায় দুই দিন বাড়তি সময় চেয়েছেন। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত কমিটির সবার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়োগ কমিটি এড়াতে পারে না। কমিটির একজন সদস্যও প্রথম আলোকে বলেছেন, কমিটি পুনর্গঠন করলে পরীক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিটির কেউ কেউ সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি। তাই এ কমিটির ওপর দায় দেওয়া যায় না। তা ছাড়া নতুন কোনো কমিটি করার এখতিয়ার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নেই। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে। সেটি করা হয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তাতে বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির (ডিপিসি) কিছু করার সুযোগ নেই।
'চার মেডিকেল কলেজ বাঁচাতে সহায়তা দেবে সরকার' সমকালের শিরোনাম।
খবরে বলা হয়, রাজধানীর চারটি রুগ্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি পূরণে রোগী দিয়ে সহায়তা করবে সরকার। এসব রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ সরকারই দেবে।
তবে রোগীপ্রতি কত টাকা দেওয়া হবে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কীভাবে বিল পরিশোধ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হাসপাতাল চারটি হলো- শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে হাসপাতালগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কলেজের নিজস্ব হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী না থাকায় হাতে-কলমে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
এতে শিক্ষার ঘাটতি নিয়ে চিকিৎসক হয়ে বের হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।
'ইউপি নির্বাচনে ভোটের প্রস্তুতি দলগুলোর' আজকের পত্রিকার শিরোনাম। এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিজেদের জন্য দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। একদিকে সরকার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, অন্যদিকে দল হিসেবে নির্বাচনে সফল হতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা, নেতাদের প্রভাব বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ফলে ইউপি নির্বাচনেই বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে বিএনপি। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক দলের নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা না হলেও ইতিমধ্যে অধিকাংশ ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
এই নির্বাচনে ভালো ফল করতে কয়েক মাস আগে থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে এবং নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের। এরপরও মাঠ গোছাচ্ছে দলটি
অপরদিকে, ইউপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে নয়, নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় এনসিপি-সমর্থিত প্রার্থীরা অন্যদের সঙ্গে সমঝোতায় গেলে দল বাধা হবে না।
'৫ বছরে দেশে চিনির ব্যবহার কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ' বণিক বার্তার শিরোনাম।
খবরে বলা হয়, দেশে চিনির ব্যবহার গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাবে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তা কমে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টন হওয়ার প্রাক্কলন রয়েছে। পাঁচ বছরে ব্যবহার কমার হার প্রায় ৩৩ শতাংশ।
প্রধান চিনি ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের চিনি খাওয়া কমার হার সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ ব্যাপক হারে বাড়ায় চিনি গ্রহণ কমিয়ে দিচ্ছে মানুষ। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণেও চিনির ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।
ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের চিকিৎসার শুরুতেই চিনি খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সাধারণভাবে বেশি চিনি ও পরিশোধিত শর্করা গ্রহণ স্থূলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
দেশে অল্পবয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার। ফলে সচেতনভাবেই অনেকে চিনিজাতীয় খাবার গ্রহণ কমাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি চিনির মূল্যবৃদ্ধি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এ প্রবণতার পেছনে কিছু ভূমিকা রাখছে।
'প্রবৃদ্ধি-মূল্যস্ফীতি নিয়ে আইএমএফের দুঃসংবাদ' কালের কণ্ঠের শিরোনাম।
খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে খারাপ খবর বা উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফ। সংস্থাটি মনে করে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশে নামতে পারে।
একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০.৯ শতাংশে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমা ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার এই পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দ্বিমুখী চাপের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
একদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে খারাপ বার্তা দিলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা চলার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাসে ধারাবাহিক অবনতি দেখা যাচ্ছে। গত এপ্রিলে চলতি অর্থবছরে ৪.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।
ইত্তেফাকের শিরোনাম - এলপিজি বাজারের
অস্থিরতার নেপথ্যে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে দেশের খুচরা বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া দামের চেয়েও বেশিতে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। কোনো কোনো এলাকাতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার কারণে ভোক্তরা সিলিন্ডারও পাচ্ছেন না। কিন্তু এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হঠাত্ এত বেড়ে যাবার কারণ কী?
এ খাতের শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি এবং পরিবহন ও সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দেশে এলপিজি আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এ কারণগুলো দেশের বাজারে এলপিজির দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বাজারে এলপিজি সরবরাহ করে এমন কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলপিজির চাহিদা বাড়ার জন্য বেশকিছু ঘটনা কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া। গত কয়েক বছরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ অনেক কমেছে। এতে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বাজারে এলপিজি সরবরাহ করত এমন দুই-একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি এবং সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ আরো বেড়েছে।
এদিকে, এলপিজি সিলিন্ডারের বিক্রির দর নির্ধারণ করে দেয় বিইআরসি। কোম্পানিগুলো জানায়, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করেন। এ সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র সরকারিভাবে যাচাইয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু কোনো কোনো জায়গায় সরবরাহের ঘাটতি থাকায় খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম রাখেন। এতে করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাইকারি দামের চেয়ে খুচরা মূল্য ৪০০ টাকারও বেশি ব্যবধান হয়। কেউ কেউ এজন্য মুল কোম্পানিগুলোকে দায়ী করেন। অথচ খুচরা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করার জন্য সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি রয়েছে।
এ বিষয়ে ওমেরা এলপিজির চিফ অপারেটিং অফিসার মাথেন্দ্র ডি যয়োশা ইত্তেফাককে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি অর্থায়নে সীমাবদ্ধতা এবং দেশের বাজারে সরবরাহের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম বজায় রেখেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম। একদিকে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে নির্ভরযোগ্য এলপিজি সরবরাহ প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন আর্থিক ও পরিচালনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তিনি বলেন, ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা ও আমদানিতে অর্থায়নের জটিলতার কারণে দেশের বেশ কয়েকটি বড় এলপিজি অপারেটর তাদের স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম বজায় রাখতে পারছে না। এর ফলে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় এলপিজির প্রাপ্যতায় ব্যবধান দেখা দিয়েছে। মাথেন্দ্র যয়োশা বলেন, এলপিজি সংগ্রহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ওমেরার আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালনগত প্রস্তুতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করেছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওমেরার নিজস্ব আমদানি কার্যক্রম নিয়মিত থাকলেও বাজারের সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সরবরাহ সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, বিইআরসি গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে কোনো কোনো খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ওমেরা সরকার নির্ধারিত মূল্যসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অননুমোদিত মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সমর্থন করে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমদানিকারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমদানি অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য এলপিজির প্রাপ্যতা উন্নত করা সম্ভব।
