আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটনকে আস্থা পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেছেন, ইরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানান তিনি। খবর এএফপির।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জবাবকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে ইরান।
মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রেজাই।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মার্কিন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক গ্রামও ইরান থেকে সরানো হবে না। তাঁর ভাষ্য, এসব পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের সম্পদ এবং দেশের অভ্যন্তরেই তা ব্যবহার করা হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তেহরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানে অনড়।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও নিজেদের শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেহরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়ার পরই এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট, নৌ অবরোধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এটিভি/এসআইআর
