Published on
:
2 min read
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ভারত পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে। সাফল্য এলেও আত্মতুষ্টিতে যে কেন্দ্রীয় সরকার বিন্দুমাত্র নারাজ, তা স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। বৃহস্পতিবার দেশের সমস্ত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের (NSF) শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কড়া বার্তা দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গোটা দেশ কেবল গুটিকয়েক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে অলিম্পিক্স বা এশিয়ান গেমসের স্বপ্ন দেখতে পারে না; ভারতকে হতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তৈরির নিরবচ্ছিন্ন কারখানা।
মীরাবাই চানুর উপর অতিরিক্ত ভরসা
বৈঠকে অলিম্পিক পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানুর উদাহরণ টেনে ফেডারেশন কর্তাদের একপ্রকার তুলোধনা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি চাঁচাছোলা ভাষায় বলেন, ‘আর কত দিন একা মীরাবাই চানু আমাদের জন্য পদক এনে দেবেন? আমাদের অন্তত আরও ১০ জন মীরাবাই চানু তৈরি করতে হবে। প্রতিটি ফেডারেশনকে এই দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাঁধে তুলে নিতে হবে। আমাদের আসল কাজ তৃণমূল স্তর থেকে নিখাদ প্রতিভা খুঁজে বের করা, তাদের বিশ্বমানের বিজ্ঞানসম্মত ট্রেনিং দেওয়া এবং এমন পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াচক্রের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছতে পারে।’
বৃহস্পতিবারের এই মেগা কনক্লেভে অ্যাথলেটিক্স, শুটিং, বক্সিং, তিরন্দাজি, স্কোয়াশ ও উশু সহ দেশের সমস্ত শীর্ষ ফেডারেশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনার পাশাপাশি মূলত ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্স, ২০৩০ সালে ভারতে আয়োজিত হতে চলা কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩০ দোহা এশিয়ান গেমসের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করাই ছিল এই সভার মূল উদ্দেশ্য।
অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণকে আধুনিক করায় জোর
বড় মঞ্চে স্নায়ুর চাপ সামলাতে ভারতীয় অ্যাথলিটদের বারবার খেই হারানোর প্রবণতা রুখতে একগুচ্ছ আধুনিক নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, চিরাচরিত অনুশীলনের দিন শেষ। এবার প্রতিটি জাতীয় শিবিরে স্পোর্টস সাইকোলজিস্ট, স্পোর্টস সায়েন্স বিশেষজ্ঞ এবং হাই-পারফরম্যান্স মেন্টাল ট্রেনারদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ফেডারেশনগুলিকে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক ত্রুটিবিচ্যুতির আত্মমূল্যায়ন করার নির্দেশ দেন। এই বৈঠকে খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের যৌথ সচিব বিনীল কৃষ্ণ এবং টপস (TOPS)-এর সিইও কর্নেল এন এস জোহাল ভবিষ্যৎ রূপরেখা পেশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাড়সে ফেডারেশনগুলিকে জেলা ও রাজ্য স্তরের সংগঠনের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখার কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘খেলো ইন্ডিয়ার ভাবনাকে তৃণমূল স্তরে সফল করতে হলে রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের শাখাগুলিকে সক্রিয় করতে হবে। শুধু প্রতিভা খুঁজে পাওয়াই যথেষ্ট নয়, তাদের গড়ে তোলার দায়বদ্ধতাও সমান।’
অন্যদিকে ক্রীড়া সচিব হরি রঞ্জন রাও ভারতীয় ক্রীড়াজগতের সামনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০৩০ দোহা এশিয়ান গেমসে ভারতকে যে কোনও মূল্যে শীর্ষ তিনে জায়গা পাকা করতে হবে। আর ২০৩০-এর কমনওয়েলথ গেমস যেহেতু ভারত আয়োজন করছে, তাই ২০১০ সালের ঘরের মাঠের রেকর্ড ভেঙে সেরা তিনে শেষ করাকে জাতীয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমগ্র ইকোসিস্টেমকে একটি ‘চার চাকার গাড়ি’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানান—অ্যাথলিট, কোচ, ফেডারেশন এবং সাই-মন্ত্রক একসঙ্গে পা মেলালেই ২০২৮ অলিম্পিক্সে ভারতের গৌরব আরও উজ্জ্বল হবে।
