উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউরোপীয় দুই পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ ও আর্সেনালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ঘরের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত বায়ার্ন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শেষদিকের গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় তারা। এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে গত আসরের রানার্সআপ আর্সেনাল। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন নেমে গেছে ১৪তম স্থানে।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সফরকারী আর্সেনাল। খেলা শুরুর দশম মিনিটে পাস দেওয়ার চেষ্টায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। তবে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় গানাররা। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো লম্বা পাস ধরে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন এবেরেচি এজে। শুরুতে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলের সিদ্ধান্ত আসে। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে বায়ার্ন সময় নেয় মাত্র দশ মিনিট। ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের বাড়ানো লম্বা থ্রু পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের নিয়ন্ত্রিত শটে আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিস।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬১তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বক্সে আর্সেনালের ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বারের উঁচিয়ে রাখা হাতে কেইনের শট লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ক্যারিয়ারের ৫৮তম গোলটি করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আর্সেনালের বিপক্ষে এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ২৩তম ম্যাচে ১৬তম গোল। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রতি মৌসুমেই ক্লাবটির বিপক্ষে গোল পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি, যার বেশিরভাগই ছিল টটেনহ্যাম হটস্পারে খেলার সময়। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েন কেইন। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা ১১ ম্যাচে গোল করে সর্বোচ্চ রেকর্ডের একক মালিক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যা স্পর্শ করতে কেইনের প্রয়োজন আর মাত্র একটি ম্যাচ।
কেইনের এমন ব্যক্তিগত অর্জনের দিনে বায়ার্ন যখন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ ডেকলান রাইস। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ভিক্টর গিয়োকেরেসের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় ওয়ান-টু পাসে বল নিয়ে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে বায়ার্নের জালে জড়ান এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তাঁর এই সমতাসূচক গোলেই শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় দুই জায়ান্টের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই।
