প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় হার। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দুই দিনেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে যেন পুরোপুরি বদলে গেছে ম্যাচের চিত্র। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন। সঙ্গে কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে প্রোটিয়ারা। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ফলোঅনে পড়েও বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস হার এড়াতেই এখনও প্রয়োজন ১৭০ রান।
বুধবার গেবেখার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। ট্রাভিস হেড ৮৭ রানে অপরাজিত আছেন। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ৯ উইকেটে ৪২৫ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅনে নামতে হয় সফরকারীদের।
অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে এমন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার মূল নায়ক ইয়ানসেন। বাঁহাতি এই পেসার মাত্র ৩৩ রান খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। তার তোপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের চতুর্থ সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
আগের দিন মাত্র ৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। বুধবার সকালে ইয়ানসেনের প্রথম বলেই ফিরে যান নাইটওয়াচম্যান স্কট বোল্যান্ড। দিনের দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর একে একে ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, অ্যালেক্স ক্যারি ও বিউ ওয়েবস্টারকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ইয়ানসেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন স্টিভ স্মিথ। বাকিদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাত্র ৪২.৩ ওভারে শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের প্রথম ইনিংস।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় আনরিখ নরকিয়ার চোট। প্রথম ইনিংসে মারনাস লাবুশেনকে ফিরিয়েছিলেন এই পেসার। কিন্তু কুঁচকির চোটে মাত্র ৩.৩ ওভার বোলিং করেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এরপরও অস্ট্রেলিয়াকে ফলোঅন করানোর সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বাভুমা। তার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, সেটি দ্রুতই প্রমাণ করেন রাবাদা। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার নিক ম্যাডিনসনকে ফিরিয়ে দেন এই পেসার। প্রথম ইনিংসেও এই ব্যাটসম্যানকে আউট করেছিলেন তিনি।
এরপর হেড ও লাবুশেন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৯২ রান যোগ করে কিছুটা স্বস্তি ফেরান অস্ট্রেলিয়ার শিবিরে। তবে লাবুশেনের উইকেট নিয়ে সেই জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার সাইমন হার্মার।
৩৯ রান করা লাবুশেন বড় শট খেলতে গিয়ে মিড অন থেকে পেছনে দৌড়ে আসা ইয়ানসেনের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর আবারও আঘাত হানেন রাবাদা। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ও ম্যাচসেরা ম্যাট রেনশকে বোল্ড করেন তিনি। অন্যদিকে বিউ ওয়েবস্টারকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার বিপদ আরও বাড়ান হার্মার।
অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন হেড। ইনিংসের শুরুতে মাত্র ৫ রানে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। ইয়ানসেনের হাতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়ার পর সেটি কাজে লাগিয়ে অপরাজিত ৮৭ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
অস্ট্রেলিয়ার দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে স্মিথের চোট। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় ঘাড়ে অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে চতুর্থ দিনের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে নামেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বাভুমা। অধিনায়কের ১৭৯ রানের অসাধারণ ইনিংসের পাশাপাশি ইয়ানসেন করেন ৮৫ রান। হার্মারের ব্যাট থেকে আসে ৮২।
