আজকের পত্রিকা ডেস্ক

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের চলমান আন্দোলনের মধ্যে নতুন বিক্ষোভে হয়ে উত্তাল উঠেছে ফ্রান্স। দ্রব্যমূল্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ শনিবার প্রায় ৩২ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। তবে বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত ১৬০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ অবস্থায় সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের অন্তত ১৪০টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে মুখোশধারী ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর মার্সেইয়ের টাউন হলে বিক্ষোভকারীরা দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। পরে পুলিশ তাদের বের করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, জিনিসের দাম বাড়লেও বেতন আগের মতোই আছে। মাস শেষের আগেই পকেট হয়ে যায় গড়ের মাঠ। আমাদের দমবন্ধ হয়ে আসছে।
২০২৪ সাল থেকেই ফ্রান্সের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছিল। এর মধ্যে চলতি বছর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দেশটির ওপর ঋণের চাপও বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী বছর নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ হতে পারে, জিডিপির ১২০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণের চাপ কমাতে ব্যাপক সংস্কারের বিকল্প নেই।
এদিকে একের পর এক বিক্ষোভ মাখোঁর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার বলেন, প্রতিবাদ জানানো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে জনস্বার্থ ও সম্পত্তি রক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

