একসময়ের কুখ্যাত দুষ্কৃতী হুব্বা শ্যামল খুন হয়েছিল ২০১১ সালে। হুব্বা শ্যামল খুনে অন্যতম অভিযুক্ত ছিল ‘কুখ্যাত’ দুষ্কৃতী রাজকুমার চৌধুরী ওরফে চিকুয়া। হুগলির ‘ত্রাস’ সেই চিকুয়া এবার পুলিশের জালে। ডানকুনি টোল প্লাজা থেকে এই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা ও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। এই কুখ্যাতকে গ্রেপ্তার বড় সাফল্য, এমনই মনে করছে প্রশাসন।
২০১১ সালে খুন হয়েছিল হুগলির ত্রাস কুখ্যাত হুব্বা শ্যামল। সেই খুনের পরেই আরেক দুষ্কৃতী রমেশ মাহাতোর উত্থান। হুগলি ও হাওড়া অঞ্চলের ত্রাস হয়ে উঠেছিল এই রমেশ। সেই রমেশেরই অন্যতম প্রধান সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন এই চিকুয়া। হুব্বা শ্যামল খুনে অন্যতম অভিযুক্ত ছিল এই রাজকুমার চৌধুরী ওরফে চিকুয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, হুগলি, হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম পাণ্ডা হয়ে উঠেছিল রমেশ মাহাতো। চিকুয়া, নেপু এবং আক্রম রমেশ মাহাতোর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ।
আরএম গ্যাং নামে চলত এই অপরাধের সাম্রাজ্য। এই চক্র মূলত তোলাবাজি, সুপারি কিলিং বা খুন এবং বেআইনি সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে হুগলি অঞ্চলের প্রোমোটারদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জোরপূর্বক ইমারতি সামগ্রী সাপ্লাই করার মতো অপরাধমূলক কাজও এই গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ। অপরাধমূলক কারবার চালানোর জন্য বিহার থেকেও ভাড়াটে দুষ্কৃতীদের এই রাজ্যে নিয়ে আসা হত! তৃণমূল আমলে ভাড়াটে দুষ্কৃতীদের মাধ্যমে অপরাধের জাল ক্রমেই বাড়ানো হত বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত কয়েক বছর ধরেই চিকুয়াকে খুঁজছিল পুলিশ। কিন্তু তার সন্ধান মিলছিল না। শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ডানকুনি টোলপ্লাজা এলাকায় হানা দেয়। সেখানেই একটি স্করপিও গাড়িতে পাওয়া যায় চিকুয়াকে। আর পুলিশের জাল কেটে পালাতে পারেনি এই কুখ্যাত। গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। গাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছে নগদ ১০ লক্ষ টাকা। তাকে জেরা করে অপরাধের আরও তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
