শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
আপডেট :
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ২৬

এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে ৯ অক্টোবর কর্মস্থলের উদ্দেশে সৌদি আরব রওনা হয়েছিলেন শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। পরদিন ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই স্ত্রীকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিলেনও। কিন্তু কে জানত, সেটিই হবে তাঁদের শেষ কথা আর বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের তালিকায় ঢুকে যাবে শাহেদের নাম!
তাই রিয়াদে পৌঁছানোর মাত্র ১৩ দিন পরই ফিরলেন শাহেদ, তবে কফিনবন্দী হয়ে। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটায় শাহেদের কফিনবন্দী লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে এসে পৌঁছায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে। এ সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাবার কফিন ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহেদের দুই ছেলে কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬)।

আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ লাশ দেখার জন্য ভিড় করেন।
নিহত শাহেদের চাচাতো ভাই মাসুম রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শাহেদের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদিপ্রবাসী। শাহেদও জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান। এক মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসে ৯ অক্টোবর আবার সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শাহেদ। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলি বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ওই টার্মিনাল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করে হুতি। এতে আরেকজন বাংলাদেশির সঙ্গে শাহেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।’
আসরের নামাজের পর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় শাহেদকে।
জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, ‘লাশ আসার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছি। নিহতের পরিবারকে সরকারি নগদ আর্থিক অনুদান পাইয়ে দিতে সব ধরনের চেষ্টা করছি।’

