ডিভিডেন্ড মৌসুমেও টানা দরপতনে তীব্র হচ্ছে আস্থার সংকট
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা দরপতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কোন বাস্তব উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া পুঁজিবাজারে জুন ক্লোজিং বা হিসাববছর শেষ হওয়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তেমনি গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে সূচকের কিছুটা উত্থানে মুনাফা তোলার চাপে ফের হোঁচট খাচ্ছে পুঁজিবাজার। ফলে দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারের হাহাকার ততই বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ মানেই লোকসান।
ফলে মাসুদ কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার ৫ মাস অতিবাহিত হলেও এখন আস্থা ফেরাতে পারেনি পুঁজিবাজার। বরং আস্থা বিনিয়োগকারীদের যেটুকু ছিল তাও সংকটে পড়েছে। ফলে দিন দিন বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এর ওপর ভর করে কিছুটা গতি ফিরেছিল দেশের পুঁজিবাজারে। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে না ঘটায় এখন বাজারে দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ মৌসুমে সর্তক অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না। এছাড়া গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজার উন্নয়নে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটেনি। বরং বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থায় অধিকাংশ সময় সূচকের টানা দরপতনে বাজারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বিনিয়োগকারীরা।
একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। লেনদেন কমতে কমতে তিনশ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। ফলে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের হতাশাও বাড়ছে। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকলো। চলতি বছরে এই প্রথম দুই কার্যদিবস লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরে থাকার ঘটনা ঘটলো।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, গত সপ্তাহের তিন কার্যদিবস ধারাবাহিক উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছেন। বিশেষ করে গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার পরিবর্তে হাতে থাকা শেয়ার সমন্বয় করেছেন। এর সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আসন্ন আর্থিক প্রতিবেদন ও পর্ষদ সভার ফলাফল নিয়ে অপেক্ষার কারণে বাজারে নতুন অর্থ প্রবেশের প্রবণতাও কম ছিল।
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫২২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৬ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, দর কমেছে ২১৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭ টির। ডিএসইতে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৩৯ কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪২ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭২ টির এবং ২৫ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।


