দেখতে দেখতে এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত। উৎসবের মরশুমে ১৮ অক্টোবর রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে চলে পাঁচ রাউন্ড গুলি। ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। ইতিমধ্যেই টাইগার কাণ্ডে গ্রেপ্তার ১১। সাতদিন পরও সেই মুহূর্তের আতঙ্ক তাড়া করছে টাইগারকে! জীবনের এই বিরাট ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেননি, সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই খবর। জানা যাচ্ছে, মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারীরা অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত টাইগারের প্রথম প্রতিক্রিয়া, “কারও সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই।”
আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশর সামনে বয়ান রেকর্ড করার মতো মানসিকভাবে এখনই তৈরি নন টাইগার। তাই আপাতত তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর গাড়ির চালক এবং আহত ভ্লগারের বক্তব্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে। একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শত্রুতা বা হামলার সম্ভাব্য কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন ৩৬ বছর বয়সি এই অভিনেতা। সেই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিকভাবেধাক্কা সামলে ওঠারও চেষ্টা করছেন ‘বাগি’ অভিনেতা। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারীরা অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বয়ান রেকর্ড করার চেষ্টা করেন।
তিনি জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। টাইগারের বক্তব্য, “এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে চাই না। কে আমার উপর এমন প্রাণঘাতী হামলা করল, আর কেনই বা করল? কারও সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই। তাহলে আমার উপর হামলা চালানো হল কেন?” তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট এগারো জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা প্রধান দুই শুটারকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছেন। যাদের দু’জনেরই বয়স আঠারো বছর।
অভিযোগ, তাদের সঙ্গে ছিল বাইশ বছরের রতিক কুমার, যে রোশন নামেও পরিচিত। গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা সম্ভবত একটি মোটরবাইকে চেপে পালিয়ে যায়। পরে আন্ধেরিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় বাইকটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের পালানোর পরিকল্পনা ছিল প্রথমে সুরাট, সেখান থেকে ট্রেনে চেপে দিল্লি তারপর নেপালে গিয়ে গা ঢাকা দেবে। তদন্তে পুলিশ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্কে তৈরি জিগানা পিস্তল এবং একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে দশটি তাজা কার্তুজ। অস্ত্র ও কার্তুজগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শনিবার ইন্দোর থেকে বাইশ বছর বয়সি প্রাঞ্জল ঠাকরানকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, হামলায় অভিযুক্ত শুটারদের আর্থিক, সাংগঠনিক এবং অন্য ক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করেছিলেন। তদন্ত যত এগচ্ছে, ততই হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ধৃত এগারো জনের প্রত্যেকের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করার পাশাপাশি অভিনেতার উপর হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
