
ছবি: সংগৃহীত
সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ব্যভিচার ও যাবতীয় অন্যায়-অবিচার চিরতরে দূর করতে জুমার খুতবার সময় জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও আলেম সমাজকে আরও সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সমাজে নানাবিধ অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদের ভূমিকা অনস্বীকার্য, কারণ সাধারণ মানুষ তাঁদের মুখের বাণী পরম আস্থা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিশ্বাস করে।
সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকারের নানা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের এই সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে। সেই সাথে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ তহবিলের অর্থ বৃদ্ধিসহ আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের সার্বিক কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।
