সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুই সদস্য। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বৈঠকে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা। এ সময় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো এবং জম্মু-কাশ্মীর বিরোধের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বক্তব্য দেন বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রহিম হায়াত কুরেশি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন অপরিহার্য। সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে কুরেশি বলেন, জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাব অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সমান অধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘের সংস্কার এবং বৃহত্তর বৈশ্বিক স্বার্থ এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত। আলোচনায় চেক প্রজাতন্ত্রের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য আন্দ্রেই দস্তাল সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান। জার্মানির ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য মিশায়েল ফন ডের শুলেনবুর্গ চুক্তিটির বাস্তবায়ন ও শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ভারত ২০২৫ সালের এপ্রিলে চুক্তিটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ভারত-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে একটি হামলার পর নয়াদিল্লি ওই ঘোষণা দেয়। তবে ভারতের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অবস্থান, একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা যায় না।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি সিন্ধু নদ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। চুক্তিটি এখন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের আশঙ্কা, দেশটির পানিপ্রবাহ সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির বাধ্যবাধকতা নিয়ে চলমান এই বিতর্কে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। ব্রাসেলসের বৈঠকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুই সদস্যের বক্তব্যকে সেই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে ইসলামাবাদ।
