চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে রাজনীতি করা লোকজনের কেউ কেউ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দ. জেলার সদস্য সচিব জোবাইরুল আলম মানিক। এসব অপরাধ প্রতিরোধে ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন জোবাইরুল আলম মানিক। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজা উদ্যাপন কমিটির হাতে নগদ অর্থসহায়তাও তুলে দেন তিনি।
জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, এখনো মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের মতো সমস্যা রয়ে গেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত না রাখলে এসব সমস্যা পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এ জন্য সন্তানদের চলাফেরা ও মেলামেশার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, প্রশাসনের অনেকেই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকেন। আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে রাজনীতি করা লোকজনের কেউ কেউ মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাঁদের প্রতিহত করতে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে এক পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের মধ্যে ঐক্য থাকলে মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারবেন না। মাদকের কারণে একটি পরিবারও যেন ধ্বংস না হয়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনোয়ারা থেকে এনসিপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, তিনি আনোয়ারার সন্তান হিসেবে মানুষের সমর্থন চান। তার মাধ্যমে এলাকার মানুষের উপকার হবে বলে মনে করলে তাকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে এনসিপির চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব রিদুওয়ানুল করিম হৃদয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক দায়িত্বে থাকা শাহেদুল আলম শাহেদ, সহদপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী হিমেল, নারী বিষয়ক সম্পাদক ডালিয়া বড়ুয়া, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. নাঈম উদ্দীনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আনোয়ারা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ, সদস্যসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার বিন হোসেন এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
জেআই
