শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ও সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এই প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলোতে বাহিনীর পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে বাহিনীর মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পূজা উদযাপন কমিটিকে প্রীতি উপহার দেওয়া হয় এবং ফুল দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ সারা দেশের পূজামণ্ডপে ডিউটিরত আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের অনবদ্য দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আরও পড়ুন
জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি না, পথ দেখিয়ে দিই: শফিকুর রহমান

পরিদর্শনের শুরুতে দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী টিডিপি সদস্য কুড়িগ্রামের লিমন শেখ (২২), গাইবান্ধার ভিডিপি সদস্যা পারভীন (৪৬) এবং টাঙ্গাইলের ফিরোজ খানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মহাপরিচালক দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে যে সমন্বিত কার্যক্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার ধারা গড়ে উঠেছে, তা আসন্ন নির্বাচনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনগুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধের যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার এই সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও জননিরাপত্তা কার্যক্রমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা এই বাহিনীকে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত করেছে। শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য আদান-প্রদান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীর এই সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ সমন্বিত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর চারটি স্তরের কার্যক্রম ও দায়িত্বের ধরন ভিন্ন হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব স্তরের সদস্যদের সম্মিলিত সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত আনসার সদস্য এবং তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের জীবন পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্মদক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনসহ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত অংশগ্রহণ আরও ফলপ্রসূ হবে।
দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের উৎসবমুখর পরিবেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়েছে, সেখানে দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন। এ ধরনের দায়িত্বশীলতা বাহিনীর পেশাদারত্ব, সতর্কতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অঙ্গীকারের প্রকৃত প্রতিফলন।
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বিসর্জনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জনসমাগম ও চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। ধর্মীয় উৎসবের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে বাহিনী তার জননিরাপত্তামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
