মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির মালয়েশিয়া ত্যাগের অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হননি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে জোরালো যুক্তি ও সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। শুধু সংবাদ বা অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি মন্তব্য করতে চান না।
তিনি বলেন, আমি সংবাদ বা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই না। জোরালো যুক্তি ও সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলেই কেবল মন্তব্য করতে পারি। এ বিষয়ে আমি অবগত নই।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘জাতীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে সুরা আল-হুজুরাত’ শীর্ষক জাতীয় ফোরামে অংশগ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবক ঈসা ইসার্ব বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি গ্রাম পরিদর্শনের সময় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখা যায়। সেখানে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তাঁর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কোনো পরিচয়পত্র ছিল না। পরে বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর মা-বাবার সহায়তায় পাসপোর্ট সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর দাবি, দূতাবাস ও মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সহায়তায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা, পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
